চাকসুর নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিং ও হত্যার হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে আটকের ঘটনায় যুক্ত থাকা নারী নেত্রীদের সাইবার বুলিং ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) জিএস সাঈদ বিন হাবিব। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে চাকসুর কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে সাঈদ বিন হাবিব বলেন, অসংখ্য অভিযোগে অভিযুক্ত হাসান মোহাম্মদ রোমানকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে চাকুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস রিতা ও অন্যান্য নারী নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্য করে একটি পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে তাদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে মবস্টার-সন্ত্রাসীসহ চরম অশ্লীল, নারী-বিদ্বেষী, সহিংস ও ঘৃণামূলক ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বিষয়টি শুধু মানহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, শারীরিক ক্ষতির ইঙ্গিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শন।
তিনি বলেন, চাকসু সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ কোনো অপরাধ নয় বরং নৈতিক দায়িত্ব। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন তোলা নাগরিক, সাংবিধানিক ও নৈতিক অধিকার। নারী নেতৃত্বকে ভয় দেখানো, চরিত্রহননের মাধ্যমে রাজনৈতিক বা আদর্শিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ ধরনের সাইবার আক্রমণ কেবল নারী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নয়, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষাঙ্গনের সুস্থ সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। ঘৃণা, গুজব ও হুমকির মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের কলুষিত করার যে অপচেষ্টা চলছে, চাকসু তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোরালো দাবি জানিয়ে চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন, অবিলম্বে এই সাইবার বুলিং, হুমকি ও উসকানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পেইজগুলোকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শান্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। কোনো ধরনের হুমকি, সন্ত্রাস কিংবা ভয়ভীতির কাছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে চাকসু নেতৃবৃন্দ নতি স্বীকার করবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রতি নিয়োগ প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। চাকসু মনে করে, নিয়োগসংক্রান্ত প্রাসঙ্গিক তথ্য ও নীতিগত ব্যাখ্যা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসম্মুখে উপস্থাপিত হলে প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার পারস্পরিক আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
চাকসুর দাবি হচ্ছে, প্রশাসনকে সকল নিয়োগের প্রক্রিয়াসহ যাবতীয় বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের আলোকে বিষয়টি স্পষ্ট করতে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক। এতে করে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্কের সূচনা হয়েছে, তার অবসান ঘটবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
আতিকুর রহমান/আরএআর