স্পিরিট পানে রংপুরে প্রাণ হারালেন ৩ জন

মদের নামে রেকটিফাইড স্পিরিট পানে রংপুরে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে জেলার বদরগঞ্জ ও সদর উপজেলার পৃথক স্থানে মারা যান তারা।
মৃতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূর্ব শিবপুর গ্রামের সোহেল মিয়া (৩০), আলমগীর হোসেন (৪০) ও সদর উপজেলার শ্যামপুর শাহ পাড়ার জেনতার আলী (৪১)।
এর আগে রোববার (১১ জানুয়ারি) মধ্যরাতে স্পিরিট পান করে তিনজনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় মাদককারবারি জয়নুল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুরের বসন্তপুর এলাকার বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন চোলাই মদ ও স্পিরিট বিক্রি করেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিরা রোববার রাতে তার বাড়ি থেকে মদ কিনে পান করেন। পরে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে পরে তাদের মৃত্যু হয়।
মৃত ব্যক্তিদের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তিনজনের মধ্যে রোববার রাত ১০টার দিকে সোহেল বাড়িতে ও আলমগীর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। তবে জেনতার আলী কখন মারা গেছেন তা জানাতে পারেনি পুলিশ।
সোহেলের স্ত্রী মোরশেদা বেগম বলেন, রোববার সকালে স্বামী ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বিকেলে বাসায় ফিরে সন্ধ্যার দিকে আবার বের হন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসকদের ডাকা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাড়ে ১২টার দিকে মারা যান তিনি।
গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শামসুল আলম বলেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রেকটিফাইড স্পিরিট বিক্রি হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এলাকায় সব ধরনের মাদকের কারবার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান জাহিদ সরকার ও সদর থানার ওসি আব্দুল গফুর।
তারা জানান, পুলিশ মাদকসেবীদের বাড়িতে গিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। অপরদিকে দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারী জয়নুল আবেদীনকে মদসহ আটক করে। এ ঘটনায় ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ফরহাদুজ্জামান ফারুক/আরকে/আরএআর