Dhaka Post

ঢাকা শুক্রবার, ২১ জানুয়ারি ২০২২

Pijush Bandyopadhyay

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়

আহ্বায়ক, সম্প্রীতি বাংলাদেশ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম ১৯৫০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর, ফরিদপুর শহরে। তিনি একাধারে টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা, অনুসন্ধানী পাঠক ও প্রতিশ্রুতিশীল লেখক।

ঢাকা থিয়েটার ও বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত থেকে মঞ্চনাটকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। চলচ্চিত্র উন্নয়নেও রয়েছে তার বিশেষ ভূমিকা। তার মননশীল কলাম ও ভাবনা পাঠককে আবিষ্ট করে, ভাবায়। আপাদমস্তক মানবিক ও প্রগতিশীল এই সংস্কৃতিপ্রাণ মানুষটি মনের আনন্দে শিশুতোষ ছড়াও লিখেছেন অসংখ্য।

ষাটের দশকে ছাত্রজীবন থেকেই জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। মিছিল-মিটিং এর অগ্রভাগে অংশ নিয়েছেন প্রতিনিয়ত। সেই সময় তিনি বৃহত্তর ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের নেতা এবং একজন পরিচিত নাম। ফরিদপুর জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাহচর্যে কাজ করেন। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে যে ক’জন পথিকৃতের হাত দিয়ে নবনাট্য আন্দোলনের শুরু তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম। বঙ্গবন্ধু পুত্র শেখ কামালের ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন তিনি।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। গ্রাম থিয়েটার আন্দোলনে সারা দেশ ঘুরে বেরিয়েছেন তৃণমূলে নাট্য আন্দোলন সংগঠনে। 

১৯৮৫ সালে তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নামেন। গঠন করেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হয়ে শুরু করেন স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন। ১৯৯১ এর সাধারণ নির্বাচনে ফিরল না গণতন্ত্র। দৈনিক লালসবুজ পত্রিকায় সম্পাদক হয়ে কলম ধরলেন অনিয়মের বিরুদ্ধে।

তার প্রথম টিভি নাটক ‘বিশ্বাস ঘাতকের মা’। তবে তাকে বেশি জনপ্রিয় করেছিল ‘সকাল সন্ধ্যা’ নাটকটি। আশির দশকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘সকাল সন্ধ্যা’ ধারাবাহিক নাটকে ‘শাহেদ’ চরিত্রের আড়ালে একসময় হারিয়ে গিয়েছিল তার আসল নাম। 

তার প্রথম অভিনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘আগামী’। নাসির উদ্দিন ইউসুফ পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের যীশু’ ছবিতে তিনি অনবদ্য অভিনয় করেন। এছাড়া ‘আমার বন্ধু রাশেদ’, ‘গেরিলা’, ‘উত্তরের খেপ’, ‘কিত্তনখোলা’, ‘মেঘলা আকাশ’, ‘আধিয়ার’, ‘আমার আছে জল’, ‘মৃত্তিকা মায়া’, ‘আমি শুধু চেয়েছি তোমায়’, ‘বুনো হাঁস’ ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ জলাঞ্জলি দিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে তিনি গড়ে তোলেন ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের সামাজিক সংগঠন। বর্তমানে তিনি সংগঠনটির আহ্বায়ক হিসেবে কাজ করছেন।

শারদীয় দুর্গোৎসব : সম্প্রীতির উৎসব

নীল আকাশ, কাশবন, শিশির ভেজা শিউলি, বাতাসে হিম হিম পরশ—সবকিছু মিলিয়ে বাংলার শরৎ এমনিতেই আকর্ষণীয়। সেই সঙ্গে সন্ধ্যা আর ভোরে হালকা কুয়াশা, ঢাকের বোল, দূর থেকে ভেসে আসা শঙ্খের ধ্বনি—শরতের চরিত্রকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়।