বিজ্ঞাপন

হজ ফ্লাইটে বিপর্যয়ের শঙ্কা, একক প্রচেষ্টায় সমাধান করলেন বেবিচক কর্মকর্তা

অ+
অ-
হজ ফ্লাইটে বিপর্যয়ের শঙ্কা, একক প্রচেষ্টায় সমাধান করলেন বেবিচক কর্মকর্তা

আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে৷ আসন্ন হজ মৌসুম সামনে রেখে সম্ভাব্য ফ্লাইট সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়ের শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটা কাটল বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) পরিচালক (এয়ার ট্রান্সপোর্টেসন) মোহাম্মদ সফিউল আজমের সরাসরি উদ্যোগে। তার ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে সাপ্তাহিক অতিরিক্ত ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বেবিচক জানায়, সৌদি আরবের সঙ্গে বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সাপ্তাহিক ৩৫টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সাপ্তাহিক ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে। তবে এবারের হজযাত্রী সংখ্যা বিবেচনায় এই ফ্লাইট সংখ্যা যথেষ্ট না হওয়ায় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছিলেন, ফ্লাইট সংখ্যা না বাড়ালে হজ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সৌদি কর্তৃপক্ষকে তিন দফা চিঠি পাঠালেও শুরুতে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠার পর সরাসরি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন মোহাম্মদ সফিউল আজম।

তিনি সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, মন্ত্রণালয় এবং জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জিএসিএ) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন। সৌদির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি আবির আল সোহাইবানি ও আহমেদ এস আল জুবিয়াদিসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে তিনি ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন।

বিজ্ঞাপন

অবশেষে এই প্রচেষ্টার ফল আসে। সৌদি আরব বাংলাদেশকে আরও ১৪টি অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ৭টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেবিচকের পরিচালক (এয়ার ট্রান্সপোর্টেসন) মোহাম্মদ সফিউল আজম বলেন, হজ মৌসুম সামনে রেখে ফ্লাইট সংকট তৈরি হওয়ায় শুরু থেকেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ফ্লাইট অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। 

তিনি বলেন, এই অতিরিক্ত ফ্লাইট যুক্ত হওয়ায় হজযাত্রীদের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন হবে এবং সম্ভাব্য শিডিউল বিপর্যয় এড়ানো যাবে।

বিজ্ঞাপন

পারস্পরিক সমন্বয়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশও সৌদি আরবের সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সকে সিলেট থেকে সৌদি আরব রুটে ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দিয়েছে, বুধবার রাতে অনুমোদন দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে সাপ্তাহিক মোট ফ্লাইট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৩টি। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে ৪২টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১টি ফ্লাইট।

এ বছর হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন ৭৬ হাজার ৫৮০ জন এবং ভিসাসহ সকল কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এতদিন পর্যন্ত কেবল ফ্লাইট সংকটই ছিল প্রধান উদ্বেগের বিষয়, যা এখন কার্যত কেটে গেছে।

এবার হজ ফ্লাইট পরিচালনায় অংশ নেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, সৌদি এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাই নাস।

বেবিচক জানায়, শেষ মুহূর্তে মোহাম্মদ সফিউল আজমের একক প্রচেষ্টা ও কার্যকর যোগাযোগ না থাকলে হজ ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের শিডিউল সংকট তৈরি হতে পারত।

এআর/এনএফ