ঢাকা-করাচি রুটে যাত্রীদের কড়া নিরাপত্তা তল্লাশি করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি এই ফ্লাইটের যাত্রীদের উপর বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। ঢাকা থেকে পাকিস্তানের এই একমাত্র রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, করাচি রুটের যাত্রীদের গোয়েন্দা সংস্থা ও এভিয়েশন সিকিউরিটি ইউনিটসহ একাধিক সংস্থা চেক-ইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং গেট পর্যন্ত যাত্রীদের চলাচল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাচাই, নথিপত্র বারবার পরীক্ষা, লাগেজ স্ক্যান এবং জিজ্ঞাসাবাদসহ সব মিলিয়ে বাড়ানো হয়েছে তল্লাশির মাত্রা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিমানবন্দরে কর্মরত এক কর্মী ঢাকা পোস্টকে জানান, গত ২৩ এপ্রিলের করাচি ফ্লাইটে প্রথমবারের মতো এমন নজরদারি লক্ষ্য করা যায়। সেদিন করাচিগামী একটি ফ্লাইটে প্রায় ৭০ জন পাকিস্তানি নাগরিক, ২ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী এবং ৫০-৫৫ জনের মতো পর্যটক ও রোগী ছিলেন।
এই ফ্লাইটের বোডিং ব্রিজ ও এর আশপাশের এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। বিমানবন্দরে সাধারণত একজন যাত্রীকে যাত্রা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তবে করাচি ফ্লাইটের যাত্রীদের যাত্রার উদ্দেশ্য নিয়ে গোয়েন্দারাও সন্দেহজনক যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে থাকেন। তবে সেই ফ্লাইট থেকে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।
বিমানের তথ্য অনুযায়ী, বিমানের ঢাকা–করাচি রুটে ফ্লাইট চালুর পর থেকে প্রায় আড়াই হাজার যাত্রী যাতায়াত করেছেন। এই যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন পর্যটক, চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী, শিক্ষার্থী এবং পাকিস্তানে বসবাসরত স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া বাংলাদেশি।
বিমানবন্দরের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই ফ্লাইটের কিছু ব্যক্তি পাকিস্তান হয়ে ইরানে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই ঢাকা–করাচি রুটে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তারা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সংঘাতে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রমণের প্রতিটি ধাপে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় অননুমোদিত যাতায়াত কিংবা উগ্রপন্থায় প্রভাবিত ব্যক্তিদের বাণিজ্যিক বিমানপথ ব্যবহার করার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে, এই রুটটি অবৈধ অভিবাসন, শ্রম পাচার ও অঙ্গপাচারের মতো আন্তঃদেশীয় অপরাধচক্রের অপব্যবহারের শঙ্কাও রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংকটে অস্থিতিশীল রুটগুলোকে অবৈধ চলাচলের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের নজির রয়েছে। তাই নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময়ই বহাল থাকে। এটি কোনো নির্দিষ্ট ফ্লাইটকেন্দ্রিক নয়, সব ফ্লাইটের যাত্রীর ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। যাত্রী নিরাপত্তাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
এর আগে ১৪ বছর বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ঢাকা–করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু হয়, যা বাণিজ্য, পর্যটন, চিকিৎসা ও শিক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হিসেবে বিবেচিত।
বিমানবন্দর থেকে সন্দেহভাজন উগ্রপন্থি আটক
২৭ এপ্রিল সকালে পুলিশ সদর দপ্তরের একটি চিঠির সূত্র ধরে দেশের আট বিমানবন্দরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। সতর্কতা জারির কয়েকঘণ্টা পরই চীনের গুয়াঞ্জু যাওয়ার সময় যাওয়ার সময় বোর্ডিং এলাকা থেকে আবু বক্কর নামে এক যাত্রীকে আটক করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই যাত্রীর চীনের চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে গুয়াংজু যাওয়ার কথা ছিল।
আবু বক্করের সঙ্গে পাকিস্তানের তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) যোগাযোগের প্রমাণ পায় গোয়েন্দারা। পরে আবু বক্করকে র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই ঘটনার পরদিন তাকে কামরাঙ্গীরচর থেকে গ্রেপ্তার দেখায় মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
বিমানবন্দরে এই সন্দেহজন আটকের বিষয়ে বেবিচকের বক্তব্য চাইলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি অবগত নয় বলে জানিয়েছে।
এআর/এমএসএ
