রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ফাইনালে টাইব্রেকারের নাটকীয়তায় ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্সকে হারিয়ে দেশের প্রথম এটিজেএফবি এয়ারলাইন্স ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ (এএফসি) ২০২৬-এর শিরোপা জিতেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর গুলশানের ইয়ুথ ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত গ্র্যান্ড ফাইনালে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি।
দুই দিনব্যাপী এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি)। দেশি-বিদেশি মোট ১৬টি এয়ারলাইন্সের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতা ছিল দেশের এভিয়েশন খাতের প্রথম আন্তঃএয়ারলাইন্স ফুটবল আসর।

আজ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেমিফাইনালে এয়ার ইন্ডিয়াকে টাইব্রেকারে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স। নির্ধারিত সময়ে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় শেষ হয়েছিল।
অন্য সেমিফাইনালে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কাতার এয়ারওয়েজকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে ওঠে তারা। ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে নায়ক বনে যান জাহাঙ্গীর আলম। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান।
পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে কাতার এয়ারওয়েজকে ১-০ গোলে হারিয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এয়ার ইন্ডিয়া।
দিনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত গ্র্যান্ড ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স। দুই দলের সমানতালে লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে সমতা থাকায় শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে। স্নায়ুচাপের সেই পরীক্ষায় বেশি দৃঢ়তা দেখায় বিমান। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের ঘরে তোলে তারা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন বিমান দলের খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকেরা।

টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় (ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট) নির্বাচিত হন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জাহাঙ্গীর আলম।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম।
চ্যাম্পিয়ন দলকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু খেলাধুলায় নয়, যাত্রীসেবা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার দিক থেকেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে দেশের শীর্ষ অবস্থান ধরে রাখতে হবে। বিশ্বমানের এয়ারলাইন্স হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এটিজেএফবি) সভাপতি তানজিম আনোয়ারের নভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন– এটিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লব। এছাড়া টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পন্সর এনভয়-শেলটেক এভিয়েশন, পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ভিআইপি মোটরস এবং অন্যান্য স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
টুর্নামেন্ট ডিরেক্টর ও এটিজেএফবির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আদনান রহমান বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল এভিয়েশন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নেটওয়ার্কিং আরও শক্তিশালী করা। আমরা দেখেছি, সব দলই ইতিবাচক ও প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে খেলেছে। এটিই এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।’
তিনি জানান, আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে এভিয়েশন খাতকে নিয়ে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে তিনটি এয়ারলাইন্স ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারেনি। তবে আগামী ক্রিকেট আসরে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এবারের টুর্নামেন্টের কো-স্পন্সর হিসেবে সহযোগিতা করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ফার্স্টট্রিপ, ওয়ার্ক স্টেশন এবং প্লিয়াদিশ বাংলাদেশ লিমিটেড (পিবিএল)।
এ ছাড়া স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ছিল ঢাকা এয়ারলাইন্স ক্লাব। হসপিটালিটি পার্টনার হিসেবে ছিল ক্রাউন প্লাজা ঢাকা-গুলশান, মিডিয়া পার্টনার এভিয়েশন এক্সপ্রেস, ইনজুরি ইন্স্যুরেন্স পার্টনার ওয়াদা ইনস্যুর, হাইড্রেশন পার্টনার ট্রাভেল পোর্ট, স্বাস্থ্যসেবা সহযোগী ফেমাস স্পেশালাইজড হসপিটাল এবং ইভেন্ট সাপোর্ট পার্টনার হিসেবে ফেমাস ক্রিয়েশন টুর্নামেন্ট বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে।
এর আগে শুক্রবার (৩ জুলাই) গুলশান ইয়ুথ ক্লাব মাঠে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূত পাওলো ফার্নান্দো দিয়াস ফেরেস এবং আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো কার্লোস সেসা।
ছয়জন খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস–বাংলা এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার, এয়ার অ্যাস্ট্রা, এমিরেটস, কাতার এয়ারওয়েজ, সৌদিয়া, টার্কিশ এয়ারলাইন্স, এয়ার অ্যারাবিয়া, ইন্ডিগো, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, এয়ার ইন্ডিয়া, থাই এয়ারওয়েজ, এয়ারএশিয়া, সিল্কওয়ে ওয়েস্ট এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাই দুবাইসহ মোট ১৬টি দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্স অংশ নেয়।
আরএইচটি/বিআরইউ
