বিজ্ঞাপন

লিজে ১০ এয়ারক্রাফট আনবে বিমান, আরও ১০টি কিনতে চুক্তি শিগগিরই

লিজে ১০ এয়ারক্রাফট আনবে বিমান, আরও ১০টি কিনতে চুক্তি শিগগিরই

বোয়িং থেকে ১৪ বিমান কেনার চুক্তির পর এবার এয়ারবাস থেকে ১০ বিমান কিনতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। তবে তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটাতে দ্রুততম সময়ে ১০টি এয়ারক্রাফট লিজ নেওয়ার কথা ভাবছে বিমান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র ঢাকা পোস্টকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সূত্র জানায়, ২০২৭ সালের মধ্যে বহরে লিজে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত হলে বহরের আকার বেড়ে ২৯টিতে পৌঁছাবে, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

সূত্র জানায়, বিমানের এই বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পৃথকভাবে নেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাবিত ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির সরাসরি সম্পর্ক নেই। ওই উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এয়ারবাস থেকেও উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

তবে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে নতুন উড়োজাহাজ উৎপাদনে বোয়িং ও এয়ারবাস থেকে ২০৩০ সালের আগে উড়োজাহাজ পাওয়ার সুযোগ না থাকায় মধ্যবর্তী সময়ের চাহিদা পূরণে লিজ নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছে বিমান।

জানতে চাইলে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রাথমিকভাবে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পরিচালনাগত প্রয়োজন ও নতুন রুট সম্প্রসারণের ওপর নির্ভর করে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এ বছরের মধ্যেই সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি। এর মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো এবং নতুন গন্তব্যে সেবা চালু করা সম্ভব হবে।’

লিজ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এ পর্যন্ত প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে এবং সেখান থেকে যোগ্য একটি প্রতিষ্ঠানকে নির্বাচন করে পুরো লিজ প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এদিকে বিমান ইতোমধ্যে ছয় বছরের জন্য ড্রাই লিজে তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার নেওয়ার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। এসব উড়োজাহাজ ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে সরবরাহ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল মোট ১৪টি অত্যাধুনিক বোয়িং বিমান কেনার চুক্তি করে বিমান।

চুক্তি অনুযায়ী বিমানের বহরে তিন ধরনের অত্যাধুনিক উড়োজাহাজ যুক্ত হবে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার,  ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স।

বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তির পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে এয়ারবাস।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে ১০টি উড়োজাহাজ সরবরাহের নতুন প্রস্তাব দেয় তারা। ১০টির মধ্যে ৬টি এ৩৫০-৯০০ মডেলের ওয়াইড বডি এবং ৪টি এ৩২১-নিও মডেলের ন্যারোবডি এয়ারক্রাফট। এ৩৫০-৯০০ মডেলের এয়ারক্রাফটে ৩৮টি বিজনেস ক্লাস ২৮টি প্রিমিয়াম ইকোনমি এবং ২১৪ টি ইকোনমিসহ মোট ২৮০ টি সিট রয়েছে। এ৩২১-নিও এয়ারক্রাফটি ২৮ টি বিজনেস ক্লাসসহ মোট ২১৫ সিট বিশিষ্ট।

সেসময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম জানান, এয়ারবাসের প্রস্তাবটি তারা পেয়েছেন এবং বর্তমানে তা যাচাই–বাছাই প্রক্রিয়ায় রয়েছে। যেকোনো প্রস্তাবই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, আর্থিক সুবিধা এবং অপারেশনাল প্রয়োজন বিবেচনায় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। এখনো কতটি বা কোন মডেলের উড়োজাহাজ প্রস্তাব করা হয়েছে তা নিশ্চিত নয়, তবে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ও ফাইন্যান্স কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে ১৫ জুলাই (বুধবার) বিমানকে এয়ারবাসের প্রস্তাব রিভিউ করার আবদার নিয়ে প্রভাবশালী কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের রাষ্ট্রদূত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে এসে মন্ত্রী আফরোজা খানম এবং প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের সঙ্গে দেখা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশে নিযুক্ত ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জিন মার্ক সেরে চার্লেট, যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত সারাহ কুক, স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল সিস্টিয়াগা, জার্মান দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স এনজা টার্সটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিশনের ডেপুটি চিফ বাইবা জেরিন।

বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে ১৯ টি বিমান রয়েছে। তবে এর মধ্যে ৩টি বিমান গ্রাউন্ডেড অবস্থায় আছে (সাময়িকভাবে চলাচলের অনুপযোগী)।

এআর/বিআরইউ