ফ্লাইটে যাত্রীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট, ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং এবং প্রতিটি আসনে মোবাইল চার্জিং সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। ২০২৭ সালে বহরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন উড়োজাহাজে এসব সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি একই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্বের ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার লক্ষ্য নিয়েছে বেসরকারি বিমান পরিবহন সংস্থাটি।
রোববার (১৯ জুলাই) কক্সবাজারের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে ইউএস-বাংলার বহরে ২১টি একেবারে নতুন (ব্র্যান্ড নিউ) উড়োজাহাজ যুক্ত হবে। এসব উড়োজাহাজে ওয়্যারলেস স্ট্রিমিং, আকাশে ইন্টারনেট ব্যবহার এবং প্রতিটি আসনে মোবাইল চার্জিং সুবিধা থাকবে। অনেক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস এসব সেবার জন্য অতিরিক্ত অর্থ নিলেও ইউএস-বাংলা যাত্রীদের বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দিতে চায়।
আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বর্তমানে ইউএস-বাংলার বহরের উড়োজাহাজগুলোর গড় বয়স ১০ বছর, যা বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি এয়ারলাইনসের বহরের গড় বয়সের সমপর্যায়ের। বাংলাদেশি যাত্রীদের মধ্যে স্থানীয় এয়ারলাইনসের উড়োজাহাজ পুরোনো—এমন ধারণা বদলে দিতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি জানান, বর্তমানে ইউএস-বাংলা দেশের ছয়টি অভ্যন্তরীণ রুট এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এ নেটওয়ার্ক ২০টি দেশের ৩০টি গন্তব্যে সম্প্রসারণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আগামী ২৯ জুলাই ঢাকার একটি হোটেলে বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। এরপর ২০২৭ সালের পুরো বছরজুড়ে নতুন উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হবে। স্বাধীনতার পর অভ্যন্তরীণ রুটে প্রথম ব্র্যান্ড নিউ উড়োজাহাজ দিয়ে যাত্রা শুরু করা বেসরকারি এয়ারলাইনস হিসেবে ইউএস-বাংলা এবার আন্তর্জাতিক রুটেও নতুন উড়োজাহাজ পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়েছে।
ইউএস-বাংলার এমডি বলেন, বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহন বাজারের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিচালনা করছে ইউএস-বাংলা ও এয়ার অ্যাস্ট্রা। ইউএস-বাংলা প্রতিদিন প্রায় ৯৪টি অভ্যন্তরীণ এবং ৩০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করে। মাসে প্রতিষ্ঠানটির মোট ফ্লাইট সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন হাজার এবং বছরে প্রায় ৪০ হাজার।
তিনি বলেন, ইউএস-বাংলাকে শুধু একটি দেশীয় এয়ারলাইনস নয়, আন্তর্জাতিক মানের একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। নতুন উড়োজাহাজ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং উন্নত যাত্রীসেবার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সংবাদ সম্মেলনে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক (জিএম) কামরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচটি/জেডএস
