কক্সবাজারে বিমানের ধাক্কায় ২ গরুর মৃত্যু, ঢাকায় নিরাপদ অবতরণ

Md Adnan Rahman

৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৩৪ পিএম


অডিও শুনুন

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ। উড্ডয়নের সময় বিমানের পেছনের চাকার সঙ্গে দুটি গরুর ধাক্কা লাগে। 

গরু দুটি রানওয়েতে ঘোরাঘুরি করছিল। রানওয়ে থেকে বিমানের চাকা শূন্যে ওঠার দুই থেকে তিন সেকেন্ডের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। বিমানের চাকার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই গরু দুটি মারা যায় এবং উড়োজাহাজটির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। 

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৫টা ৫৩ মিনিটে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে উড়োজাহাজটি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়ন করে। 

কক্সবাজার বিমানবন্দর ও শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। 

শাহজালাল বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৪৩৮ উড়োজাহাজটি সন্ধ্যায় ৬টা ৪৫ মিনিটে ঢাকার আকাশে পৌঁছায়। অবতরণের আগে শাহজালাল বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) পাইলট উড়োজাহাজের চাকায় কারিগরি ত্রুটি থাকার কথা জানান। তখন এটিসি থেকে তাকে কিছুক্ষণ আকাশে অপেক্ষা করতে বলা হয়।

৯৪ জন যাত্রী নিয়ে প্রায় ২০ মিনিট ঢাকার আকাশে ঘুরতে থাকে যাত্রীবোঝাই উড়োজাহাজটি। এই সময়ের মধ্যে শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে, যেন অবতরণের সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এ এইচ এম তৌহিদ-উল আহসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিমানটিকে পর্যবেক্ষণের জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়। রাত ৭টা ১০ মিনিটে বিমানটি বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে অবতরণ করান পাইলট। শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতিতে তিনি সফলভাবে অবতরণে সক্ষম হন। 

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ড. আবু সালেহ মোস্তফা কামাল ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়েতে গরু কীভাবে এলো সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিমানের ক্যাপ্টেন এ বিষয়ে রিপোর্ট দিলে কক্সবাজার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।  

এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের ম্যানেজার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারের অফিশিয়াল নম্বরে ফোন করা হয়। কিন্তু তারা রিসিভ করেননি। 

dhakapost

সীমানাপ্রাচীর নেই, দুর্ঘটনা ঘটেছে আগেও

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০০৫ সালের ৯ মার্চ কক্সবাজার বিমানবন্দরের উত্তরে বঙ্গোপসাগরে একটি কার্গো উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে বিদেশি পাইলটসহ তিনজনের মৃত্যু হয়। কার্গো উড়োজাহাজটি কক্সবাজার থেকে চিংড়ি পোনা নিয়ে যশোর যাচ্ছিল। এছাড়া ২০১৭ সালে একটি বেসরকারি উড়োজাহাজের চাকায় পিষ্ট হয়ে রানওয়েতে তিনটি কুকুরের মৃত্যু হয়।

২০১৮ সালের ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে উদ্বোধন করেন। প্রায় ৭৫ বছর বয়সী এই বিমানবন্দরে নেই কোনো সীমানাপ্রাচীর। বর্তমানে এর সীমানাপ্রাচীরের নির্মাণকাজ চলছে। ২০১৯ সালের জুনে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা শেষ হয়নি। ফলে উড়োজাহাজ ওঠা-নামার ফাঁকে প্রায়ই বিমানবন্দরের রানওয়েতে আশপাশের মানুষ ও গরু-ছাগল ঢুকে পড়ে।

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তথ্য মতে, এই বিমানবন্দরের রানওয়ে ৯ হাজার ফুট লম্বা এবং চওড়া ২০০ ফুট।

এআর/এইচকে

Link copied