সরিষার নতুন ৫ জাত উদ্ভাবন, বাড়বে কৃষকের আয়

Dhaka Post Desk

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, বাকৃবি

০১ জুলাই ২০২২, ০৯:৪৯ পিএম


সরিষার নতুন ৫ জাত উদ্ভাবন, বাড়বে কৃষকের আয়

ছত্রাকজনিত অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ প্রতিরোধী এবং উচ্চফলনশীল সরিষার পাঁচটি জাত উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষক অধ্যাপক ড. আরিফ হাসান খান রবিন ও তার দল। দীর্ঘ পাঁচ বছরের গবেষণায় মিলেছে এ সাফল্য। 

উদ্ভাবিত সরিষার জাতগুলো হলো বাউ সরিষা-৪, বাউ সরিষা-৫, বাউ সরিষা-৬, বাউ সরিষা-৭ এবং বাউ সরিষা-৮। 

জাতগুলোর প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ২ দশমিক ৫ টন যা দেশে প্রচলিত অন্যান্য জাতের তুলনায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে সারা দেশে চাষের উপযোগী এবং এদের জীবনকাল ৯০ থেকে ৯৫ দিন। এর ফলে কৃষকদের আয় বাড়বে দেড় থেকে দুই গুণ।

সরিসার উদ্ভাবিত নতুন জাত নিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন গবেষক দলের প্রধান বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. আরিফ হাসান খান রবিন।

dhakapost

ড. রবিন জানান, দেশে সরিষা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হলো নানা রোগ ও পোকার আক্রমণ, যার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগ। এটি একটি ছত্রাকজনিত রোগ। রোগটি এককভাবে তেল-বীজের ফলন ৩০-৫০ শতাংশ কমিয়ে দেয়। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে জমির শতভাগ ফসল নষ্ট করে দেয়। নতুন উদ্ভাবিত জাতগুলো অলটারনারিয়া ব্লাইট রোগের প্রতি উচ্চমাত্রায় সহনশীল এবং প্রায় ৯৯ শতাংশ প্রতিরোধী। 

আগাম ও স্বল্প জীবনকালের আমন ধান চাষের পর একই জমিতে এই সরিষার জাতগুলো কৃষকরা চাষ করতে পারবেন। বিগত তিন বছর ধরে বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে প্রকল্পটির গবেষণা চলমান রয়েছে। গবেষণা প্রকল্পটির সঙ্গে উপদেষ্টা হিসেবে যুক্ত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান।

dhakapost

সরিষার উপকারিতা সম্পর্কে এ গবেষক বলেন, সরিষার তেলে মনোআনসেচুরেটেড এবং পলিআনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড থাকায় রক্তে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিডের একটি আদর্শ অনুপাত (২.৫ঃ১) থাকায় এটি স্বাস্থ্যের জন্য অতি উপকারী। এ ছাড়া সরিষার তেল হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করে।

তিনি আরও জানান, উদ্ভাবিত জাত পাঁচটি ব্রাসিকা জুনসিয়া প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত। জাতগুলো অতিরিক্ত আদ্রতাতেও ১০০ দিনের মধ্যে দানা পরিপক্ব হতে সক্ষম। দেশে বর্তমানে প্রায় ০.৩ মিলিয়ন হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়। পুষ্টিগুণ, স্বাদ ও ঝাঁঝের কারণে রসনাবিলাসের পাশাপাশি ভোজ্য তেলের চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করছে সরিষা। সরিষার তেলবীজে জাতভেদে ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ তেল থাকে। 

এ উৎপাদন দেশের মোট চাহিদার মাত্র ১৫-২০ শতাংশ পূরণ করছে। ভোজ্য তেল আমদানিতে  বাংলাদেশকে প্রতিবছর ২ হাজার ১শ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে হয়। সরিষা জাতগুলো আবাদের মাধ্যমে দেশে ভোজ্যতেলের সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানান গবেষক ড. রবিন।

মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর/আরআই

Link copied