‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছে’

Dhaka Post Desk

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, শাবি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:০০ পিএম


‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছে’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী সজল কুন্ডু। রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন তিনি।

গত ১৬ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় আহত সজল কুন্ডুর তিন দফা দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন উপাচার্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষে মোহাইমিনুল বাশার রাজ, সজল কুন্ডু, শাহরিয়ার আবেদিন, নওরিন জামান, হালিমা খানম, সাবরিনা শাহরিন রশিদ এবং রাক্তিম সাদমান অংশ নেন।

সংবাদ সম্মেলনে সজল কুন্ডু বলেন, আমার বাঁচার সম্বল ছিল আইআইসিটির ক্যাফেটেরিয়াটি। অনেক ঋণ করে দাঁড় করিয়েছিলাম এই ব্যবসা। কিন্তু আন্দোলন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন নিয়ম দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ক্যাফেটেরিয়া পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সাত মাস পেরিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীদের কোনো দাবি মানা হয়নি। আমাদের দাবি তো মানা হচ্ছেই না, উল্টো আমার ক্যাফেটেরিয়া নিয়ে নিয়ে আমার সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধে নেমেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, ১৬ জানুয়ারির হামলার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সজল কুন্ডুকে অন্তত ৯ম গ্রেডের একটি চাকরি এবং নগদ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সজল এখনো শিক্ষামন্ত্রী কর্তৃক প্রতিশ্রুত ক্ষতিপূরণ বা চাকরি কোনোটাই পাননি। উল্টো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তিনি (সজল) যে ক্যাফেটেরিয়াটি চালাতেন সেটিও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তার একমাত্র কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়ায় এমনিতেই স্প্লিন্টার ও বোমার মারাত্মক ক্ষত নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতেও হিমশিম খাওয়া সজলের সামনে নতুন আতঙ্ক হয়ে এসেছে চরম অর্থ সংকট।

এ অবস্থায় সজল একাই উদ্যোগী হয়ে বর্তমান এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের নামে করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে, শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ অবিলম্বে বাস্তবায়িত করতে হবে, অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিতে হবে- এ তিন দফা দাবিতে গত ১১ দিন যাবত ক্যাম্পাসের সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়াচ্ছে। আমরা শাবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা সজলের দাবিগুলোর সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সংহতি ও একাত্মতা প্রকাশ করছি। অবিলম্বে তার কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দিয়ে পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তার চাকরি ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আজ থেকে প্রায় আট মাস আগে ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের প্রত্যক্ষ মদদে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। শরীরে শর্টগানের ধাতব শ্রাপনেল, সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারসহ ভয়াল সেই দিনের দুঃসহ স্মৃতি এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন বহু শিক্ষার্থী। ১৬ জানুয়ারির ওই নারকীয় ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা সংঘবদ্ধ হয়ে শাবিপ্রবির ইতিহাসে নজিরবিহীন এ ঘটনার মূল কুশীলব উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলন ও আমরণ অনশনের একপর্যায়ে ঢাকা থেকে মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এবং ইয়াসমিন হক ম্যাম আমাদের মাঝে আসেন। তারা বলেছিলেন- সরকারের ওপর মহলের অনুরোধে তারা আন্দোলনস্থলে এসেছেন এবং আমাদের সমস্ত দাবি মেনে নেওয়া হবে। এমন নিশ্চয়তা তাদের দেওয়া হয়েছে। তাদের কথায় আশ্বস্ত হয়ে দীর্ঘ ১৬৩ ঘণ্টা যাবত অনশনরত ২৭ জন শিক্ষার্থী অনশন থেকে সরে আসেন।

এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল আমাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য সিলেটে আসেন। তাদের সঙ্গে আমাদের পাঁচটি দাবি এবং দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নের বিষয়ে ৮ দফা প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে শিক্ষামন্ত্রী তার এখতিয়ারভুক্ত দাবি ও প্রস্তাবনাসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তার এখতিয়ারভুক্ত নয় এমন দাবিগুলোর বিষয়ে সরকারের উচ্চ মহলকে অবহিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান। কিন্তু বর্তমানে আট মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও আমাদের দাবিগুলোর অধিকাংশই এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ফিজিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদ তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, আমরা বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নিয়েছি। আমাদের তদন্ত চলছে। আমাদের কিছু কাজ বাকি আছে এখনো। আর অন্যান্য কাজ আমরা গুছিয়ে এনেছি।

জুবায়েদুল হক রবিন/আরএআর

Link copied