শরীফুল ইসলাম বললেন, তাহলে ৫৭ পদের ওষুধ কাকে দিচ্ছি আমরা?

Dhaka Post Desk

জুবায়ের জিসান, রাবি

০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫৪ পিএম


শরীফুল ইসলাম বললেন, তাহলে ৫৭ পদের ওষুধ কাকে দিচ্ছি আমরা?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়ন করছেন প্রায় ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের চিকিৎসা সেবা দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৩৬টি। কিন্তু সেই পদের বিপরীতে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১৮ জন।

এভাবেই মোট চিকিৎসকের অর্ধেক নিয়েই চলছে মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দিতে বিড়ম্বনায় পড়ছেন কর্মরত চিকিৎসকরা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা।

মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসা সেবা নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের অভিযোগ, যেকোনো অসুখের চিকিৎসায় দেওয়া হয় প্যারাসিটামল ও ইনজেকশন। এছাড়াও বিশেষ রোগে চিকিৎসা দিতে নেই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার। অনেক সময় প্যারাসিটামল ও নাও পাওয়া যায় না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শূন্য ১৮টি পদের বিপরীতে ২০২০ সালের ২৪ অক্টোবর চিকিৎসক পদে ১৩ জনের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তবে তাদের মৌখিক পরীক্ষা না হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম আটকে আছে।

এছাড়াও মেডিকেল সেন্টারের তিনটি কিউএস মেশিনের মধ্যে দুইটি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। এই মেশিনের সাহায্যে শিক্ষার্থীরা তাদের স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে চিকিৎসকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট, রোগীর ব্যবস্থাপত্র, ইলেকট্রনিক রেকর্ডে সংযোজন, রোগ অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবা নেওয়াসহ নানা কাজে ব্যবহৃত হয়।

ইসিজি মেশিনের চিকিৎসক না থাকায় প্রায় আট বছর ধরে বন্ধ আছে এর কার্যক্রম। এছাড়াও গাইনি বিশেষজ্ঞ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চর্ম বিশেষজ্ঞ বিভাগগুলো চিকিৎসকের সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু ঢাকা পোস্টকে বলেন, মেডিকেল সেন্টারে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাব বহুদিনের। চুলকানি সমস্যা নিয়ে গত সপ্তাহে মেডিকেল সেন্টারে যাই। কিন্তু সেখানে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ কোনো ডাক্তার নেই। বাধ্য হয়ে মেডিসিন বিভাগের ডাক্তার দেখাতে হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে রাবির চিকিৎসা কেন্দ্রের ওষুধ সরবরাহ বিভাগের ইনচার্জ মো. শরীফুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, প্রতিনিয়ত দুইশতাধিকের ওপরে শিক্ষার্থী সেবা নিচ্ছে। আমাদের মেডিকেলে বর্তমানে ৫৯ পদের ওষুধ আছে। শিক্ষার্থীরা যদি শুধু নাপা আর প্যারাসিটামল পায়, তাহলে অন্য ৫৭ পদের ওষুধ কাকে দিচ্ছি আমরা?

মেডিকেল সেন্টারের প্রধান ডা. তবিবুর রহমান শেখ ঢাকা পোস্টকে বলেন, শিক্ষার্থীরা চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন কিন্তু আমরা তাদের যথাযথ সেবা দিতে পারছি না। এতে আমাদের নিজেদেরও খারাপ লাগে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক সংকটের কারণে অনেকগুলো বিভাগ ফাঁকা হয়ে পড়ে আছে। আমি উপাচার্য এবং উপ-উপাচার্য  স্যারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা দ্রুত চিকিৎসকের শূন্য পদগুলোর নিয়োগ দেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। আশা করি, তখন শিক্ষার্থীদের যথাযথ চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো।

শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদেরও ধৈর্যশীল ও সহনশীল হতে হবে। এখানে বিভিন্ন পদের ওষুধ শিক্ষার্থীদের দেওয়া হচ্ছে। আমাদের এই মেডিকেল সেন্টার থেকে মূলত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তাই রোগীর অবস্থা দেখে শুরুতে আমরা এন্টিবায়োটিক ওষুধ দিতে পারি না। প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ওষুধ দিয়ে থাকি। এতে করে শিক্ষার্থীরা ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করে থাকে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল-ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগের ওপর সরকারের নিষেধাজ্ঞা আছে। এটা তদন্তের বিষয়ের সঙ্গে জড়িত। তাই যতক্ষণ সরকার নিষেধাজ্ঞা তুলে না নেবে আমরা কোনো নিয়োগই দিতে পারবো না। নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে আমরা নিয়োগ দিতে পারবো।

প্রসঙ্গত, গত ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সেখানে বলা হয়, প্রশাসনিক কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সব নিয়োগ
কার্যক্রম স্থগিত রাখতে অনুরোধ করা হয়।

এমএএস

Link copied