সাপ আতঙ্কে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

Dhaka Post Desk

জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ 

০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:১৭ পিএম


সাপ আতঙ্কে বশেমুরবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে বিষধর সাপের উপদ্রব দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে ক্যাম্পাসের রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ, লেকপাড়সহ হল সংলগ্ন বিভিন্ন জায়গায় কয়েকটি বিষধর সাপের দেখা মিলেছে। শীতকালে এমন বিষধর সাপের উপদ্রব দেখে আতঙ্কে রয়েছেন আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা। সর্বশেষ বুধবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ক্যাম্পাসের বাধন চত্বর এলাকায় রাস্তার ওপর একটি বিষধর খৈয়া গোখরা সাপের দেখা মেলে। পরে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা সাপটিকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলে।

মেজবাউর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী ঢাকা পোস্টকে বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বিষধর সাপ দেখা যাচ্ছে। আজ একটি সাপ মারা হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিসম্পদ বিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক মো. শরিফুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, গত বছরের মতো এ বছরও ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ধরনের সাপ দেখা যাচ্ছে। আজ যে সাপটি মারা হয়েছে সেটি খৈয়া গোখরা প্রজাতির সাপ। আর এই গোখরা প্রজাতির সাপের বিষ মূলত একটি শক্তিশালী সিনাপটিক নিউরোটক্সিন এবং কার্ডিওটক্সিন সমৃদ্ধ বিষ, যা দংশনের ৪০-৫৫ মিনিট বা সর্বোচ্চ এক ঘণ্টার মধ্যে সাপে কাটা ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকে। আর প্রতি বছর ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব বাড়ার কারণ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্বল্পসংখ্যক মালি কাজ করার কারণে সব জায়গার ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হয় না। তাই এত সাপের উপদ্রব দেখা যায়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দলিলুর রহমান বলেন, সাপ উপদ্রবের বিষয়টি দুপুরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জেনেছি। এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের এই সময়ে (নভেম্বরের শেষের দিকে) ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রজাতির বিষধর সাপের দেখা মেলে। এ নিয়ে ওই বছরের ডিসেম্বরের প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার বরাবর একটি আবেদন করেন শিক্ষার্থীরা। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে কার্বলিক এসিড দেওয়া হয় ও ঝোপঝাড় কেটে ফেলা হয়। 

আশিক জামান/এমজেইউ 

 

Link copied