শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ঢাকায় ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা মহানগর ছাত্রশিবির।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে টিএসসি হয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
মিছিলে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা ‘মব করে শাকসু বন্ধ করা যাবে না’, ‘শাকসু দিতে হবে, দিয়ে দাও’, ‘হারার ভয়ে খেলে না, সেই কথা তো বলে না’, ‘দালালি না শাকসু, লন্ডন না শাকসু’, ‘ইসি যদি ভয় পায়, পদে থাকার দরকার নাই’ এমন নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচনে একদল হারবে, একদল জিতবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হারার আশঙ্কায় নির্বাচন কমিশনের সামনে অবস্থান নিয়ে তরুণদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নির্বাচন বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা ছাত্রসমাজ কখনোই মেনে নেবে না।
তিনি আরও বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হাইকোর্টে গিয়ে এমন একটি রায় আদায় করেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদসহ সব ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা এই রায় প্রত্যাখ্যান করছি।
সাদিক কায়েম বলেন, বিচার বিভাগকে নিয়ে অতীতেও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আবার যদি বিচার বিভাগকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়, ছাত্রসমাজ তা মেনে নেবে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হতে হবে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম বলেন, পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ করে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন বন্ধের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছি, একটি ছাত্র সংগঠন খেলাচ্ছলে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ ধরনের অপশক্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। নির্বাচনেও শিক্ষার্থীরা তাদের একইভাবে প্রত্যাখ্যান করবে, ইনশাআল্লাহ। দেশবাসী ইতোমধ্যে বুঝে গেছে তারা হারার ভয়ে নির্বাচন এড়িয়ে যেতে চায়।
তিনি বলেন, এর আগেও কিছু সংগঠন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে নানা অজুহাতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন বাস্তবায়নের পথে যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে। তা না হলে দেশের জনগণ ও শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদে নামবে।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের যে অধিকার, প্রকাশের অধিকার সেই অধিকারের ক্ষেত্রে সর্ব সচেষ্ট ছিলাম। আমরা আজকে দেখতে পাচ্ছি যারা শিক্ষার্থীদের দ্বারা প্রত্যেকটি ছাত্র সংসদে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাদের লাল কার্ড দেখিয়েছে তারা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আরেকটি ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে চায়।
তিনি বলেন, কয়েক দিন ধরে আমরা দেখছি, পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন কমিশনের সামনে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, যার ফল হিসেবে একাধিক নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় আমরা অটল। নির্ধারিত তারিখেই শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।
এসএআর/এমএন