তৃতীয়বারের মতো পূজার মঞ্চে পৌরোহিত্য করলেন জবি নারী শিক্ষার্থী সমাদৃতা

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যা, কলা ও সংগীতের দেবী সরস্বতী পূজার বাণী অর্চনায় টানা তৃতীয়বারের মতো পৌরোহিত্য করলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের নারী শিক্ষার্থী সমাদৃতা ভৌমিক।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের আয়োজনে ৩৭টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত পূজার মধ্যে ইংরেজি বিভাগের মণ্ডপে তিনি পৌরহিত্যের দায়িত্ব পালন করেন। সমাদৃতা ইংরেজি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। এই বিভাগ ছাড়া বাকি ৩৬টি বিভাগে পূজা পরিচালনায় ছিলেন পুরুষ পুরোহিতরা।
সমাদৃতা ভৌমিক বলেন, সমাজে পৌরোহিত্যকে এমন একটি কাজ হিসেবে দেখা হয় যে, এটি শুধু ছেলেরাই করবে। অথচ আমাদের শাস্ত্রে কোথাও বলা নেই যে শুধু ছেলেরাই এটি করতে পারবে। মেয়েরাও যে পারে এই ধারণা সমাজে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমার পৌরোহিত্যে আসা। এবারসহ আমি তিনবার পূজা পরিচালনা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।
এবারের পূজা কমিটির সভাপতি রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল বলেন, সকাল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণভাবে এ বছরের সরস্বতী পূজা পালিত হচ্ছে। সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রক্টরিয়াল বডি ও জাকসু কমিটিকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে জাকসুর সংস্কৃতি সম্পাদক তাকরিমকে।
পূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, সরস্বতী পূজা উপলক্ষ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বী সব শিক্ষার্থী ও শিক্ষককে শুভেচ্ছা। প্রতি বছরের মতো এবারও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে যথাযথ মর্যাদায় পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যাদেবীর আরাধনার মাধ্যমে লেখাপড়ায় সাফল্য অর্জন করবে এই প্রত্যাশা করি।
শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বিদ্যা, কলা ও সংগীতের দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। দেবীর আবাহনের মধ্য দিয়ে পূজা শুরু হয়ে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয়।
এমএল/এসএসএইচ