শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে ডাকসুর বিক্ষোভ

শেরপুরে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হওয়ার প্রতিবাদ, খুনিদের গ্রেপ্তার করে শাস্তির এবং দেশব্যাপী চলমান নির্বাচনী সহিংসতার বিচার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘রেজাউল ভাই মরল কেন, খুনি তারেক জবাব দে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই, রেজাউল হত্যার বিচার চাই’, ‘নারীর ওপর হামলা কেন, তারেক রহমান জবাব দে’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ জিয়ার বিএনপি আর নেই, বেগম খালেদা জিয়ার বিএনপি আর নেই। আজকের বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুনের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা আশা করেছিলাম নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে তারা দায়িত্বশীল রাজনীতি করবে। কিন্তু গত দেড় বছরে বিএনপি সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও রাহাজানির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জড়িত।
তিনি আরও বলেন, নিজেদের দলের ভেতরেই দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। যাদের হাতে নিজেদের লোক নিরাপদ নয়, তাদের হাতে দেশ কীভাবে নিরাপদ থাকবে?
তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ডাকসু ভিপি বলেন, আপনি ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বলেছিলেন। কিন্তু আমরা দেখছি সেই প্ল্যানের অংশ হিসেবে সারাদেশে নারী নির্যাতন, সন্ত্রাস ও বিশৃঙ্খলা করছে আপনার দল। এখনো সময় আছে—দলকে সংস্কার করুন, সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনুন।
ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা বিএনপির কাছ থেকে ইতিবাচক রাজনীতি প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু তারা নিজেদের দলের মধ্যেই দুই শতাধিক মানুষ হত্যা করেছে। খুন, চাঁদাবাজি ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সত্য আড়াল করার চেষ্টা করছে, যা এই সময়ে আর সম্ভব নয়।
তিনি শেরপুরের ঘটনার প্রসঙ্গে বলেন, আজ শেরপুরে শুধু একজন জামায়াত নেতা নয়, সেনা কর্মকর্তারাও আহত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নির্বাচনের সময় নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। কিন্তু বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলোর সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও খুন সেই স্বপ্নকে ধ্বংস করছে। মানুষ এখন আর বক্তব্যে নয়, কাজে বিশ্বাস করে।
সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান ডাকসুর নেতারা।
এসএআর/এমএন