রাবিতে গণভোট বিষয়ক সভায় আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে হট্টগোল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের আয়োজিত ‘গণেভোট-২০২৬ বিষয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় হট্টগোল হয়েছে। সভায় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়ে কথা বলায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব এসে তার বক্তব্যে বাধা দেন। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, আম্মার এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের থেকে কথা বলার জন্য সময় চান। প্রথমে রেজিস্ট্রার সময় দিতে না চাইলেও পরে তাকে বক্তব্য দিতে দেন। তখন আম্মার উপস্থিত কয়েকজন আওয়ামীপন্থি শিক্ষকের নামসহ মোট ১৬৫ জন শিক্ষকের নাম ঘোষণা করতে থাকেন। এ সময় উপাচার্য এসে তাকে বক্তব্য না দিতে অনুরোধ করেন।
বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, রাজশাহীতে আন্দোলন করার পরে রাজশাহীর মানুষের কাছে আমরা বলেছিলাম যে, এলিট শ্রেণির ভেতরে যারা জুলাই আন্দোলনে আমাদেরকে হত্যাযোগ্য করে তুলেছিল, তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসবো। আজকে তাদের ফাইল এখানে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী আমি আপনাদের বক্তব্যের সময় বলেছিলাম এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা জুলাই আন্দোলনে নীরব ছিল। এমনকি এখানে এমনও মানুষ বসে আছে যারা জুলাই আন্দোলনে আমাদের বিরুদ্ধে ন্যারেটিভ উৎপাদন করেছিল। তার ভেতর এখানে আছে পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রশাসনে থাকা প্রফেসর গোলাম সাব্বির সাত্তার, সুলতানুল ইসলাম টিপু , হুমায়ুন কবির হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, প্রফেসর আসাবুল হক গণিত বিভাগ, প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম মাসুদ লিটন, প্রফেসর প্রণব কুমার পান্ডে, প্রফেসর তরিকুল হাসান রসায়ন বিভাগ, প্রফেসর রশিদা খাতুনের নাম ঘোষণা করেন।
আম্মার আরও বলেন, অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তখনই নষ্ট হয়েছে যখন ফ্যাসিস্টদেরকে সামনে বসিয়ে গণভোটের কথা বলা হয়েছে।
এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ হাসান নকীব এসে তার বক্তব্য থামিয়ে বলেন, তুমি পুরোটা পড়ার সময় পাবে না। তুমি এটা দিয়ে দাও। তুমিতো যা বলার বলেছো।
পরে আম্মার তার বক্তব্য শেষ করে বলেন, এই প্রোগ্রামের পর এখানে প্রেস ব্রিফিং করবো, তালিকা ও ডকুমেন্টস সাংবাদিকদের দিয়ে দেব।
জুবায়ের জিসান/আরএআর