জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবি ইনকিলাব মঞ্চের

শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় গড়িমসি ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলাকে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো বারবার শুনানির তারিখ পেছানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই– আর কত দিনে এই মামলার তদন্ত শেষ হবে?’
তিনি অভিযোগ করেন, মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে তদন্তের কোনো অগ্রগতি জানানো হচ্ছে না এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর নকল হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে কোনো নথিতে তিনি স্বাক্ষর করবেন না।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করার ৫৩ দিন এবং হত্যার ৪৭ দিন পার হলেও এখনো প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি। বরং তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে তিনি দাবি করেন। এ ক্ষেত্রে লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যার নজির টেনে তিনি জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্তের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘গত চার দিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। তিনি যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?’
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু সিসি ক্যামেরা বসালেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা করে জাবের বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই ভারতীয় আধিপত্য, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাচ্ছে না। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে এর দায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোকেই নিতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
এসএআর/বিআরইউ