ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শ্রেণির এক পরীক্ষায় শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদিকে নিয়ে প্রশ্ন এসেছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত মাস্টার্স দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্স অ্যান্ড ল: গ্লোবাল অ্যান্ড ন্যাশনাল ইনস্টিটিউশনস, ইন্সট্রুমেন্টস অ্যান্ড ইস্যুজ’ শীর্ষক কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় এ প্রশ্ন করা হয়।
প্রশ্নপত্রের একটি অংশে ওসমান হাদির দুটি উক্তি— ‘জান দেব, তবু জুলাই দেব না’ এবং ‘আমি আমার শত্রুর সাথেও ইনসাফ করতে চাই’ এর ভিত্তিতে মানবাধিকারের পক্ষে তার সংগ্রাম ব্যাখ্যা করতে বলা হয়।
ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগেরই ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন।
একই পরীক্ষায় ‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন রাখা হয়। সেখানে জানতে চাওয়া হয়, একটি ‘সিস্টেমেটিক টুল’ হিসেবে ‘আয়নাঘর’ কীভাবে স্বৈরতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছিল।
কোর্সটি পড়ান রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম। তিনি বলেন, দেশে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের পাঠদানে সমসাময়িক বিষয়গুলো উপেক্ষিত থাকার প্রবণতা রয়েছে। জুলাই বিপ্লব, আয়নাঘর, শহীদ ওসমান হাদির আগ্রাসনবিরোধী প্রতিরোধ সংগ্রাম এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য ইনসাফের ধারণা— এসব বিষয় নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে গবেষণা শুরু হয়েছে। অথচ দেশে এ নিয়ে একাডেমিক আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম।
অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম বলেন, এসব বিষয়কে একাডেমিক ডিসকোর্সের আওতায় এনে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর গবেষণায় উৎসাহিত করাই উদ্দেশ্য।
তিনি আরও জানান, চলতি বছর ও গত বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অনেক শিক্ষার্থীই জুলাই বিপ্লবের অগ্রসৈনিক ছিলেন। তাদের অনেক সহযোদ্ধা শহীদ হয়েছেন, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, কেউ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। এসব শিক্ষার্থীর নিজেদের তৈরি ইতিহাস নিয়ে একাডেমিক চর্চা করার অধিকার রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বছরও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্সের একই কোর্সের পরীক্ষায় জুলাই বিপ্লব নিয়ে প্রশ্ন এসেছিল। সে সময়ও বিষয়টি আলোচনার জন্ম দেয়।
এসএআর/এসএসএইচ
