জাবি ছাত্রীকে ধর্ষণে অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত, তদন্ত কমিটি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) লোক প্রশাসন বিভাগের এক ছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে বাসায় আটকে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থী তারিকুল ইসলামের সকল একাডেমিক সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সাথে ঘটনা তদন্তে ৬ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ও প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসনিক সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা, সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (উচ্চশিক্ষা ও বৃত্তি) লুৎফর রহমান আরিফ। কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্তপূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের সামনে থেকে লোক প্রশাসন বিভাগের ৫৩-তম ব্যাচের ওই ছাত্রীকে হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী ইসলামনগরের একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যান তারিকুল। সেখানে ছাত্রীর হাত-পা ও মুখ বেঁধে অমানবিক শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর শরীরে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করার পাশাপাশি তার হাতে ফুটন্ত গরম পানি ঢেলে ঝলসে দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী ৯৯৯-এ কল দিয়ে সাহায্য চাইলে আশুলিয়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় মামলা (নম্বর-৭৮) করা হয়েছে। মামলার অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ওসি রুবেল হাওলাদার (পিপিএম) জানিয়েছেন, অভিযুক্ত তারিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আরএআর