ঢাকা পলিটেকনিকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, ঢাবিতে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি হলপাড়া ও কলা ভবন প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলে নেতা-কর্মীরা ‘পলিটেকনিকে হামলা কেন, ছাত্রদল জবাব দে’, ‘সন্ত্রাসী আর করিস না, পিঠের চামড়া থাকবে না’, ‘সন্ত্রাসীরা দেইখা যা, আইছে তোদের বাপেরা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক মু. সাজ্জাদ হোসাইন খাঁন বলেন, ‘বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের ইতিহাসে এক নৃশংস ঘটনা ঘটে গেছে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ছাত্রসমাজ গণরুম দখল ও সেই রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে লাল কার্ড দেখিয়েছিল। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরপরই ছাত্রদল ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা চালিয়ে হল দখলের রাজনীতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে।’
তিনি আরও বলেন, এই দখলদার রাজনীতি দীর্ঘদিন টিকতে পারে না এবং যারা এই পথ অনুসরণ করতে চায়, ছাত্রসমাজ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
ঢাবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, ‘পবিত্র রমজান মাসে রোজা রেখে আমাদের রাজপথে নামতে হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। হল দখল ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদায় হয়েছে। নতুন করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘মব জাস্টিসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকে, সেখানে মানুষকে রাস্তায় নামতে হয় না। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা বন্ধ না হলে প্রতিবাদ চলবে।
ঢাবি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মহিউদ্দিন খান বলেন, রমজান মাসে ঢাকা পলিটেকনিক ছাত্রাবাসে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। যারা অতীতের দখলদার রাজনীতির পথ অনুসরণ করছে, তাদের পরিণতিও একই হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের মধ্যে আঁতাতের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে পুরোনো পরিবেশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে এই ক্যাম্পাসে নতুন করে কোনো দখলদারত্বের সুযোগ দেওয়া হবে না।
এসএআর/বিআরইউ