‘এখানে শুধু তুমিই আছো, নিউজ হলে সকল দায় তোমাকে নিতে হবে’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থীকে নিয়ে ইফতার মাহফিল করেছে শাখা ছাত্রদল। ইফতার মাহফিল শেষে শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করায় এক সাংবাদিককে হেনস্তা ও তার ফোন থেকে ভিডিও ডিলেট করানোর অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমানের বিরুদ্ধে।
বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে মাগরিবের নামাজের পর এ ঘটনা ঘটে। এ সময় এক সাংবাদিক মসজিদের দ্বিতীয় তলা থেকে পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করছিলেন।
হেনস্তার শিকার হওয়া ওই সাংবাদিকের নাম মো. রিয়াদ ইসলাম। তিনি মর্নিং পোস্ট অনলাইন পোর্টালের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাগরিবের নামাজের পর ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে তা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় ও সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিনের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিক রিয়াদ ভিডিও ফুটেজ ধারণ করলে ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী তার ওপর চড়াও হন। পরে কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে নামার পর অজুখানার কাছে তাকে ঘিরে ফেলেন ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী। এরপর মসজিদের একপাশে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোনের গ্যালারি এবং হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক মো. রিয়াদ ইসলাম বলেন, ইফতার মাহফিল শেষে নামাজের পর ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। আমি মসজিদের দ্বিতীয় তলায় উঠে ভিডিও ধারণ করতে শুরু করি। কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মী আমাকে দেখে ‘ধর ধর’ বলে চিৎকার করেন। পরে নিচে নামলে তারা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন।
তিনি আরও বলেন, পরে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান আমাকে একপাশে নিয়ে গিয়ে মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ থেকে এক সাংবাদিককে পাঠানো ভিডিও ফুটেজ ডিলেট করে দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘এখানে একমাত্র তুমিই আছো। কোনো নিউজ হলে সকল দায় তোমাকে নিতে হবে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমার তো সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ভিডিও ডিলেট করার কোনো অধিকার নেই। এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
আতিকুর রহমান/এসএইচএ