জুলাই সনদ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি, অন্যথায় ফের রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি

অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, জুলাইয়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থানগুলোতে ‘ট্রিট মেমরি স্ট্যাম্প’ সংরক্ষণ, শহীদ ও আহতদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের প্রাপ্য সুবিধা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেল।
শনিবার (৭ মার্চ) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে জুলাইয়ে শহীদ সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়’র মা সামসি আরা জামান বলেন, সন্তান হারিয়ে আমরা সবসময় চেয়েছি যেন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়। ইন্টেরিম সরকারের আমলে অনেক টালবাহানার পর সবাই ঐকমত্যে আসে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার আসার পর আবার নানা কথা শুনতে পাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই জুলাই সনদ যেন অতি দ্রুত বাস্তবায়ন হয়। আমাদের ছেলেরা যে স্বপ্নে রক্ত দিয়েছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে সেই স্বপ্ন পূরণ হবে না। তারা এমনি এমনি রক্ত দেয়নি, দেশকে সুন্দর করার জন্যই তারা জীবন দিয়েছে।
নতুন সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, নতুন সরকার এসেছে, আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। তবে আমরা চাই তারা অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুক। তা না হলে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা আবার রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।
এ সময় ‘তারুণ্যের জুলাই’–এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সাগর উদ্দিন বলেন, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা শুরু করেছে। তারা মনে করছে জুলাই যোদ্ধাদের পাশ কাটিয়ে সরকার গঠন করেছে এবং তাদের ইচ্ছামতো সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে।
তিনি বলেন, তারা যদি এমনটা ভেবে থাকে তবে ভুল করছে। কারণ প্রতিটি জুলাইযোদ্ধা এবং যারা গণভোটের পক্ষে রায় দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, তারা এসব মেনে নেবে না। জুলাই সনদ বিকৃত করার উদ্দেশ্যে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে, আমরা এর তীব্র ধিক্কার জানাই।
এ সময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ ও আহত সেলের প্রধান সমন্বয়কারী মো. অসিন বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনে জয়লাভের পর তারা জনগণের সেই রায়কে উপেক্ষা করছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা জনগণের রায়কে উপেক্ষা করে, তাদের পরিণতি জনগণ ৫ আগস্ট দেখিয়েছে।
এসএআর/জেডএস