হাদীর খুনিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণহত্যার আসামি এবং শহীদ ওসমান হাদীর খুনিদের ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলে ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা “জাস্টিস, জাস্টিস, জাস্টিস— জাস্টিস ফর হাদি”, “শিক্ষা ও সন্ত্রাস একসাথে চলে না”, “আওয়ামী লীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “ছাত্রলীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”, “একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর”, এবং “মুজিববাদের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও” সহ নানা স্লোগান দেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে ছাত্রশক্তির নেতা জাহিদ আহসান বলেন, “ভারত যদি প্রকৃতপক্ষে বন্ধু রাষ্ট্রের মতো আচরণ করত, তাহলে খুনি হাসিনাকে প্রথম দিনই বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতো। যখন বিশ্বের অনেক দেশ এই রক্তমাখা হাসিনাকে গ্রহণ করতে চায়নি, তখন ভারতই তাকে আশ্রয় দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা দেখেছি বনগ্রাম সীমান্ত থেকে শহীদ ওসমান হাদীর খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি অনতিবিলম্বে তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হোক। একইসঙ্গে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে।”
জাহিদ আহসান অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘গনকেসে পরিণত’ হয়েছে এবং তাদের আর দেশের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “যারা ছাত্রলীগের নামে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাবে, তাদের সবাইকে প্রতিরোধ করতে হবে।”
ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, “ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে নানা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যতবার ছাত্রলীগ মাঠে নেমেছে, ততবারই ছাত্রশক্তি তাদের প্রতিরোধ করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “যদি ছাত্রদল এই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে পুনর্বাসনের কোনো চেষ্টা করে, তবে তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হবে। ছাত্রলীগকে সাধারণ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; তাদের সন্ত্রাসী সংগঠনের মতোই বিবেচনা করতে হবে।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি আওয়ামী লীগ আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে, তাহলে দেশের কেউই স্বাধীনভাবে রাজনীতি করতে পারবে না। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো সন্ত্রাসের আখড়ায় পরিণত হবে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আবারও গডফাদারদের উত্থান ঘটবে।”
বিক্ষোভ শেষে নেতাকর্মীরা হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
এসএআর/এনএফ