জাবিতে জাতীয় ছাত্রশক্তির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা

জাতীয় ছাত্রশক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংসদের ২৪ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী এক বছরের জন্য অনুমোদিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে জিয়া উদ্দিন আয়ান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নাদিয়া রহমান অন্বেষা দায়িত্ব পেয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
রোববার (১৫ মার্চ) জাতীয় ছাত্রশক্তি কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি জাহিদ আহসান এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
ঘোষিত কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে তানভীর আহমেদ শিহাব এবং সহসভাপতি হিসেবে সাইফুল ইসলাম শুভ ও মোহাম্মদ সোহাগ মনোনীত হয়েছেন। এ ছাড়া, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল্লাহ আসিফ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে খন্দকার আল ফাহাদ, নিহাল মাহমুদ ও আব্দুর রহমান দায়িত্ব পেয়েছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজকে।
কমিটির অন্যান্য সম্পাদকীয় পদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানবিষয়ক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম নাজিম, দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব তূর্য, প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতী, প্রেস ও মিডিয়া সম্পাদক মাসুদুল আনোয়ার মাহি এবং শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. মোমিনুল ইসলাম শাওনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. রিফাত রায়হান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ, ক্রীড়া সম্পাদক নাজমুস সাকিব নাহিদ, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. শোয়াইব আক্তার সীমান্ত, বিতর্কবিষয়ক সম্পাদক সাদাত ইবনে ইসলাম, পাঠচক্র ও গ্রন্থাগারবিষয়ক সম্পাদক মারুফ বিল্লাহ নাঈম এবং কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবে মোবাস্বের তালুকদার তাসিন মনোনীত হয়েছেন। কমিটিতে কার্যকরী সদস্য হিসেবে রয়েছেন কামরুন্নাহার সেতু ও হাসিবুর রহমান।
নবগঠিত কমিটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায় এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক সংস্কার নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি, এমনকি হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদেরও বিচার হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেন দ্রুত এই বিচার নিশ্চিত করে, সে বিষয়ে আমরা সোচ্চার থাকব।
ক্যাম্পাসের সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আয়ান বলেন, বিগত ১৬ বছরে ক্যাম্পাসে যে পেশিশক্তির রাজনীতি, গেস্টরুম, গণরুম ও র্যাগিং কালচার ছিল, তা যেন কোনো ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন পুনরায় কায়েম করতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব। আমরা পেশিশক্তির বদলে বুদ্ধিবৃত্তিক রাজনীতির চর্চা এবং একটি জ্ঞানভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে চাই।
বিজ্ঞাপন
অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে আয়ান আরও বলেন, গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি, অটোমেশন, অ্যাকাডেমিক সংস্কার এবং শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের সেবার মানোন্নয়নে আমাদের দৃঢ় পরিকল্পনা রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ ও সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ে তুলব।
এএমকে