জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং গুম প্রতিরোধসহ জনগুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী। রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শুরু হওয়া এই অনশন কর্মসূচিতে পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী এবং মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মো. সাদিক মুনওয়ার মুনেম। পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে যোগ দেন।
বুধবার রাতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম অনশনস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সংহতি জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ, আনান ইবনে মুনির, রায়হান উদ্দিনসহ হল সংসদের নেতারা।
সংহতি জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিক মুনেম, সাকিবুর রহমান ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইকবাল হোসেন শাহীন আজ রাজু ভাস্কর্যে আমরণ অনশনে বসেছেন। গণভোটের রায় রক্ষা আর জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের যে দাবি তাঁরা তুলেছেন, তা কেবল তাঁদের একার নয়; বরং প্রতিটি ক্ষুব্ধ নাগরিকের অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ।’
বিজ্ঞাপন
বক্তব্যে আক্ষেপ প্রকাশ করে ডাকসু ভিপি বলেন, ‘জনগণের ভোটের আমানত রক্ষায় আবারও রাজপথে নামতে হচ্ছে, এটি আক্ষেপ ও ক্ষোভের বিষয়। জুলাইয়ের রাজপথ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াই আমাদের শিখিয়েছে আপস না করা। হাজারো শাহাদাতের বিনিময়ে যে "নতুন বাংলাদেশ" আমরা পেয়েছি, তার স্পিরিটকে কোনোভাবেই ধূলিসাৎ হতে দেওয়া যায় না।’
সাদিক কায়েম আরও উল্লেখ করেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে ডাকসুর পক্ষ থেকে একাত্মতা প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, এই ত্যাগ আর লড়াই বৃথা যাবে না।’
উল্লেখ্য, অনশনরত শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে– জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ সব অধ্যাদেশ দ্রুত সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনশন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এসএআর/বিআরইউ
