পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে, যা ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দিনভর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকায় বহিরাগতদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয় এবং তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি।
বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অবাধে ঘোরাফেরা করছে। অনেকেই ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার নিয়ে ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়েন। এ সময় কিছু বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া ছাত্রীদের ছবি তোলা, এমনকি জুম করে আপত্তিকরভাবে ছবি ধারণের অভিযোগ ওঠে। কিছু গেট বন্ধ থাকলেও দেয়াল টপকে প্রবেশের ঘটনাও ঘটে। এমনকি নারী শিক্ষার্থীদের হল এলাকায় প্রবেশের চেষ্টার অভিযোগ উঠায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ে।
অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে থাকেন। এ অবস্থায় কিছু স্থানে জাকসুর সদস্যদের গেট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের একাংশ মনে করেন, পূর্বঘোষণা থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এবিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের মতে, বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের প্রস্তুতির ঘাটতি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। ফলে সামগ্রিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দুর্বলতা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক বলেন, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং স্টিকারবিহীন গাড়ি ক্যাম্পাসে ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। তবে বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তার মতে, প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে এবং এতে কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হলে দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এবিষয়ে প্রক্টরের সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি এবং সরাসরি সাক্ষাৎ করতে গেলেও ওনাকে পাওয়া যায়নি।
এসএইচএ
