পদোন্নতির জটিলতা নিরসনের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়েছে। শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকলেও পাঠদান বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসজুড়ে বিরাজ করছে নীরবতা। ক্লাস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, শিক্ষকদের দাবি যৌক্তিক হলেও ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকলে শেষ পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়বেন তারা। আন্দোলন দীর্ঘ হলে সেশনজট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাদেকুর রহমান বলেন, দাবি পূরণ না হওয়ায় বুধবার থেকে প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা শিক্ষকরাও কর্মবিরতিতে যোগ দেবেন। এতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও ব্যাহত হতে পারে।
জানা যায়, রোববার থেকে শিক্ষকদের এই আন্দোলন শুরু হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় একই দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এরপর আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে কর্মবিরতিতে রূপ নেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৬০ জন শিক্ষক বর্তমানে পদোন্নতির অপেক্ষায়। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন আরও ১০২ জন শিক্ষক।
কর্মবিরতিতে থাকা শিক্ষকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) নির্দেশনা দিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি, পেনশন ও পদোন্নতিসহ সব বিধিবিধান রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে কার্যকর করতে হবে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও বিধিমালা এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন না পাওয়ায় পদোন্নতি প্রক্রিয়া আটকে আছে। এই জটিলতার কারণে শুধু পদোন্নতি নয়-ভর্তি, পরীক্ষা ও অন্যান্য অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের বৈধতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. তৌফিক আলম বলেন, সমস্যাটি প্রশাসনিকের পাশাপাশি আইনি বিষয়ও। শিক্ষকরা পুরোনো আইনে পদোন্নতি চাইলেও ইউজিসির আপত্তির কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। নতুন সংবিধি প্রণয়ন করা গেলে দ্রুত এই সংকটের সমাধান সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকা শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক ও ৬ জন প্রভাষক।
অভিযোগ রয়েছে, গত বছরের অক্টোবরে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করা হলেও তা এখনো সিন্ডিকেটে অনুমোদনের জন্য তোলা হয়নি।
সার্বিকভাবে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরিস্থিতি শুধু পদোন্নতির সংকট নয়, বরং একটি আইনি অনিশ্চয়তার প্রতিফলন হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
এএমকে
