বিজ্ঞাপন

‘গুপ্ত’ দেয়াল লিখন ঘিরে ঢাবিতে উত্তেজনা, ৬ সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ

‘গুপ্ত’ দেয়াল লিখন ঘিরে ঢাবিতে উত্তেজনা, ৬ সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বেশ কয়েকটি হলে ‘গুপ্ত’ দেয়াল লিখন ঘিরে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মধ্যে উত্তেজনা ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দুটি পৃথক ঘটনায় ৬ সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে। 

জানা গেছে, গত বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ৭১ ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে দেয়াললিখন ঘিরে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, এইদিন রাতে বিজয় ৭১ হলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (ডুজা) তিন সদস্য হেনস্তার শিকার হন। এ সময় প্রাইম বাংলাদেশের ঢাবি প্রতিনিধি ইফতেখার সোহান সিফাতকে ভিডিও করতে বাঁধা দেন ছাত্রদল কর্মী নাভিদ আনজুম নিভান।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সিফাত নিজের সাংবাদিক পরিচয় দিলেও নিভান তাকে ভিডিও ধারণে বাধা দিয়ে বলেন, ‘সাংবাদিক হলেই এখানে ভিডিও করা যাবে না।’ এ সময় ডুজার আরও দুই সদস্য দৈনিক মানবজমিনের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান খান ও নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি হারুন ইসলাম প্রতিবাদ জানালে তারাও হেনস্তার শিকার হন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উপস্থিত ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাবির বিজয় একাত্তর হল সংসদের কক্ষের সামনে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার জেরে এ ঘটনার সূত্রপাত। পরে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিলের সময় সাংবাদিকদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।

এদিকে একই দিন গভীর রাতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে পৃথক আরেক ঘটনায় আরও তিন সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ ওঠে। হলটিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দেয়াললিখনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা এ পরিস্থিতির মুখে পড়েন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হলের একটি কক্ষে হাউজ টিউটরের উপস্থিতিতে বৈঠক চলাকালে তিন সাংবাদিক সেখানে প্রবেশ করলে তাদের বের হয়ে যেতে বলা হয়। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের দিকে তেড়ে আসেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন।

হেনস্তার শিকার ডেইলি অবজারভারের ঢাবি প্রতিনিধি ইমন জানান, “আমরা পরিচয় দেওয়ার পরও বলা হয় ‘হলের বিষয়, বাইরে থেকে কেন আসছেন।’ এরপর কয়েকজন আমাদের দিকে তেড়ে আসে এবং মারধরের চেষ্টা করে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় হাউজ টিউটর উপস্থিত থাকলেও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রথম ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসায় বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে যান ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, দপ্তর সম্পাদক মল্লিক ওয়াসি উদ্দিন তামিমসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা। সেখানে তারা সাংবাদিকদের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার আশ্বাস দেন।

তবে একই দিনে পরপর দুই ঘটনায় ছয় সাংবাদিক হেনস্তার অভিযোগ উঠায় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক সমিতির সদস্যরা এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

শহীদুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষক মিজানুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সাংবাদিকরা আসছিলেন। যেহেতু শিক্ষার্থীরা তাদের চিনত না, আমার ধারণা, তখন পেছনে থাকা কয়েকজন শাউট করেছে।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন ঘটনার পরপরই রাত ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে উপাচার্য মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্টকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল সেক্রেটারি নাহিদুজ্জামান শিপন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার মনে হয়, এখানে কোনো ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। সাংবাদিক সমিতির সভাপতির সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা দ্রুতই পারস্পরিক আলোচনায় বসে সমাধান করব।’

এসএআর/বিআরইউ