বিজ্ঞাপন

শাবিপ্রবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের তিন দশক পূর্তি : স্মৃতির রঙে রঙিন পুনর্মিলনী

শাবিপ্রবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের তিন দশক পূর্তি : স্মৃতির রঙে রঙিন পুনর্মিলনী

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগ তাদের পথচলার তিন দশক পূর্তি ও গ্র্যান্ড রিইউনিয়ন উদযাপন করেছে গত ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ২০২৬। দুই দিনব্যাপী এই উৎসব ছিল প্রাক্তন, বর্তমান শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের এক মিলনমেলা; যেখানে বিভাগের ইতিহাস, অর্জন আর ভবিষ্যতের প্রত্যাশা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল।

মানুষ, সমাজ ও সংস্কৃতির অধ্যয়নকে উপজীব্য করে ১৯৯৫ সালে সাস্টে নৃবিজ্ঞান বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। ১৯৯৬ সালে মাত্র ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট পরিবার আজ তিন দশক পর দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ বিভাগে পরিণত হয়েছে। বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আজ দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে সাফল্যের সাথে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম পুনর্মিলনীর হাত ধরেই ‘অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যানথ্রোপলজি, সাস্ট’-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর অ্যাসোসিয়েশনের পঞ্চম কার্যনির্বাহী কমিটি ও বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবার আয়োজিত হলো তিন দশক পূর্তির এই বর্ণাঢ্য উৎসব।

উৎসবের প্রথম দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন অধ্যাপক মো. মোখলেছুর রহমান এবং সদস্য সচিব ছিলেন প্রথম ব্যাচের অ্যালামনাই ওলি হাম্মাদ চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের জ্ঞান বিকাশে সহায়ক হবে। বিভাগের ফিজিক্যাল অ্যানথ্রোপলজি ল্যাবরেটরি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। 
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন।

দিনের শুরুতে ক্যাম্পাসজুড়ে বর্ণাঢ্য র‍্যালি এবং ৩০ বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে ৩০ পাউন্ডের কেক কাটা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় একাডেমিক সিম্পোজিয়াম, যেখানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমেরিকান অ্যানথ্রোপলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন সভাপতি ও মন্টিব্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. জেমস ম্যাকডোনাল্ড। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হাসান আল শাফী, আইসিডিডিআর,বি-এর অ্যাসোসিয়েট সায়েন্টিস্ট ড. রেবেকা সুলতানা এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন ড. সামিয়া হক।

১৮ এপ্রিল দ্বিতীয় দিনের মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি। তিনি সামাজিক অবক্ষয় ও তরুণদের মানসিক চাপ মোকাবিলায় নৃবিজ্ঞান বিভাগকে গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

উপাচার্য তার বক্তব্যে সিলেট অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গবেষণা জোরদার করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক ‘ইলেকট্রনিক ক্যাম্পাসে’ রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন পলাশ।

পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে সুদূর কানাডা থেকে আসা ৫ম ব্যাচের অ্যালামনাই তানভির কাওকাব বাফি আবেগপ্লুত হয়ে বলেন, "কানাডা থেকে প্রাণের এই ক্যাম্পাসে আসা আমার জন্য ছিল আত্মার টান। এই মিলনমেলা মনে করিয়ে দিল, আমরা সবাই একই শিকড়ে বাঁধা।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে ব্যাচভিত্তিক ছবি তোলা এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। আমানউল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে গালা ডিনার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডদল রিম, নোঙর ও আমন্ত্রিত ব্যান্ড ‘মেঘদল’-এর সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম ব্যাচ থেকে ৩০তম ব্যাচের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে—সাস্টের নৃবিজ্ঞান বিভাগ কেবল একটি একাডেমিক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি অটুট বন্ধনের নাম।

এমএন

বিজ্ঞাপন