ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বটতলা প্রাঙ্গণে গত সোমবার (৪ মে) থেকে চলছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশি উৎসব ১৪৩৩। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন অভয়ারণ্য’র উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসব শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের প্রায় ৩০টি জেলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে বাহারি স্টল। প্রতিটি স্টলে নিজ নিজ অঞ্চলের খাবার ও পণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। মেলায় দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে রয়েছে পিঠা-পুলি, হরেক রকমের ভর্তা, চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস, বরিশালের মিষ্টি পান, কুমিল্লার রসমালাই, বগুড়ার দই, কুষ্টিয়ার কুলফিমালাই, সিলেটের সাতকরা, নাটোরের কাঁচা গোল্লা, নওগাঁর পেরা সন্দেশ এবং দিনাজপুরের কাটারিভোগ চাল। এ ছাড়াও ইলিশপেটি, মাঠা, দই-মিষ্টি এবং মেহেরপুর-রাজশাহীর আম-লিচুসহ নানা মুখরোচক খাবারের সমারোহে মুখরিত হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ।
খাবারের পাশাপাশি মেলায় স্থান পেয়েছে মাটির তৈরি হস্ত ও কারুশিল্প। বিভিন্ন স্টলে মিলছে বাহারি নকশার হাতের বালা, গলার হার ও কানের দুল। এ ছাড়াও উৎসবের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে ফুল ও ফলের গাছের নার্সারি এবং বিভিন্ন বিষয়ের বইয়ের স্টল। বিনোদনের জন্য মেলায় নাগরদোলার পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যায় আয়োজিত হচ্ছে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
মেলায় ঘুরতে আসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কারিমা তাসনিম বলেন, এ মেলাতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা যে যে জেলা থেকে আসছে, তারা তাদের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং তৈজসপত্র জিনিসগুলো প্রদর্শন করছে এবং বিক্রি করছে। আমি নিজ জেলার খাবারের সাথে পরিচিত, কিন্তু এই মেলাতে এসে অন্যান্য সকল জেলার খাবার, জিনিসপত্র, ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।
অভয়ারণ্যের সভাপতি নাঈমুল ফারাবী বলেন, আমাদের আয়োজিত এই উৎসবে ৩০টি জেলা ছাত্র কল্যাণ সংগঠনের অংশগ্রহণে দেশের ৬৪টি জেলার ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা আগামীতে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন, তেমনি নিজেদের জেলার ইতিহাস ও সংস্কৃতিও তুলে ধরতে পারছেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একঘেয়েমি দূর করতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে। এই আয়োজন সফল করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।
মাওয়াজুর রহমান/এসএইচএ
