ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হলে পানিবাহিত রোগের উপসর্গ নিয়ে গত ৫ দিনে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ডায়রিয়া, বমি ও পেটব্যথাজনিত অসুস্থতায় হলজুড়ে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় মেডিকেল ক্যাম্প চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. তানভীর আলী জানান, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ৪০ জনের অধিক শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, পাঁচ দিনে অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১০০ ছাড়িয়েছে।
তানভীর আলী বলেন, বমি ও ডায়রিয়াজনিত সমস্যা সাধারণত পানি ও খাবারের কারণে হয়ে থাকে। ইতোমধ্যে হলে দুজন চিকিৎসক কাজ করছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হলের পানির ট্যাংক পরিষ্কারের পর পানিতে ব্লিচিং পাউডারের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। মুখ ধোয়া, কুলি করা বা গোসলের সময়ও একই গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
হলের শিক্ষার্থী জুয়েনা আলম মুন বলেন, মুখ ধোয়া বা কুলি করতে গেলেই ব্লিচিংয়ের গন্ধে বমি আসে। গোসলের পানিতেও একই সমস্যা। ওয়াশরুম পরিষ্কারের পর যথাযথভাবে পানি দিয়ে ধোয়া হয়নি।
আরেক শিক্ষার্থী সাজরিন আমিন বলেন, গত কয়েক দিন ধরে অসুস্থতার ঘটনা বাড়ছে। ক্যানটিনের খাবার ও পানি দুটিই দায়ী হতে পারে। তবে যারা ক্যানটিনে খায় না, তারাও অসুস্থ হচ্ছে। এতে মনে হচ্ছে পানিই মূল কারণ।
বর্তমানে অনেক শিক্ষার্থী বাইরের বোতলজাত পানি ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি।
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়েও অসন্তোষ জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। ফাহমিদা নাসরিন নামের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, রাতে চিকিৎসক এসে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে প্রেসক্রিপশন দেওয়ার চেষ্টা করেন, যা ব্যক্তিগতভাবে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ নয়।
শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দাবি করেছে, হলের প্রায় ৮০ শতাংশ আবাসিক ছাত্রী কোনো না কোনোভাবে অসুস্থ হয়েছেন। কয়েক দিন ধরে সুপেয় পানির সংকট থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পানির নমুনা পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
কুয়েত মৈত্রী হল সংসদের সাবেক এজিএস তানজিনা তাম্মিম হাপসা বলেন, আমরা ধারণা করছি পানিতে সমস্যা থাকতে পারে। ইন্সপেকশন টিম নমুনা নিয়ে গেছে, তবে রিপোর্ট এখনো আসেনি। প্রতিটি ব্লকেই বেশ কিছু শিক্ষার্থী অসুস্থ। অনেকের পেটব্যথা, বমি ও হালকা জ্বর দেখা যাচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবা সুলতানা। তিনি জানান, সমস্যা দেখা দেওয়ার পরপরই পানির রিজার্ভার পেশাদারদের দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে এবং ফিল্টারগুলো পুনরায় পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় পানিতে এখন পর্যন্ত নেতিবাচক কিছু পাওয়া যায়নি।
প্রাধ্যক্ষ আরও জানান, ফিল্টারের কিট পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নতুন করে পানির পরীক্ষা চলছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এবং অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমছে। প্রতিদিন মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এসএআর/এমএসএ
