জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক শিক্ষার্থীকে নেত্রকোণায় অপহরণ করে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ঘটনায় বিক্ষোভ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম শরীফ হোসেন রওশান। তিনি জাবির নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলায়।
ভুক্তভোগীর বরাতে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি আসার পর গত মঙ্গলবার তিনি সদর উপজেলার লক্ষ্মীগঞ্জ গদাইকান্দি গ্রামে বোনের বাড়িতে যান। বুধবার বিকেলে নেত্রকোণা-পূর্বধলা সড়কের সাতপাই বাইপাস মোড় এলাকায় বের হন। সন্ধ্যায় ইজিবাইকে ফেরার পথে ত্রিমোহনী সেতু পেরিয়ে সিন্দুররাটিয়া শালদিঘা এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার পথ রোধ করে এবং ‘মাদক কারবারি’ ও ‘জুলাইযোদ্ধা’ আখ্যা দিয়ে নির্যাতন শুরু করে। তারা ২০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং পরে নগদ ও বিকাশে সাড়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করে নেয়। এরপর তার স্মার্টফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে পূর্বধলা উপজেলার ত্রিমোহনী এলাকায় নিয়ে বিবস্ত্র করে জোরপূর্বক আওয়ামী লীগের স্লোগান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান বিরোধী অশালীন মন্তব্য বলাতে বাধ্য করা হয়। সেই ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা তিন দফা দাবি উত্থাপন করেছেন। দাবিগুলো হলো— ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগীর চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় রাষ্ট্র বহন করা এবং জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
বিক্ষোভ সমাবেশে ৫৪তম আবর্তনের শিক্ষার্থী আইরিশ হাজং পুনম বলেন, আমার বন্ধু শরীফ একজন জুলাইযোদ্ধা হওয়ার অপরাধে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দোসররা তাকে নির্মমভাবে শ্লীলতাহানি করেছে এবং সেই ভিডিও ফেসবুকে শেয়ার করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল মান্নান বলেন, সারাদেশে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের অপতৎপরতা থামছেই না। নেত্রকোণায় আমাদের বন্ধু শরীফ হোসেন রওশানের ওপর স্থানীয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা অতর্কিত হামলা ও হেনস্তা করেছে। এই ঘটনা জুলাই যোদ্ধাদের মনে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
নেত্রকোণার পূর্বধলা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দিদারুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থল নির্ধারণে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
জাবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমি নেত্রকোণার পুলিশ সুপার এবং শরীফের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযোগ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ। একই ঘটনায় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।
আরএআর
