চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।
রোববার (১৩ জুন) রাত ১০টায় ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রদল। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে শাহ আমানত হল, সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে আবার জিরো পয়েন্টে এসে বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
অন্যদিকে, রাত ১০টা ১৫ মিনিটে একই স্থান থেকে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী কর্তৃক জাতীয় সংসদে হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগ বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রশিবির। মিছিলটি শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে জিরো পয়েন্টে এসে বক্তব্যের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের, ‘ধর্ষকদের আস্তানা, জ্বালিয়ে দাও পুড়িয়ে দাও’, ‘এ বাংলায় হবে না, ধর্ষকদের ঠিকানা’, ‘জামাত শিবির জামাত শিবির, ধর্ষক ধর্ষক’, ‘বাহ শিবির চমৎকার, ধর্ষকদের পাহারাদার’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
অন্যদিকে স্লোগানের জবাবে পাল্টা স্লোগান দেয় ছাত্রশিবির। এ সময় তাদেরকে ‘হিজাব নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘মনিরের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘বিএনপি যুবদল, ধর্ষক ধর্ষক’, ‘হিজাব নারীর অলঙ্কার, মনিরুল হক ধিক্কার’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ৭১-এ এদের ধর্ষকের ভূমিকা ছিল, এখন ২০২৬ সালে তারা সেই ভূমিকা পালন করছে। আমরা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা সহাবস্থান চাই, তবে কোনো ধর্ষককে মেনে নেব না। আগের দিন নেই। দিন জুলাই-পরবর্তী দিন।
শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় একজন এমপি হিজাব নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের মন্তব্য তার কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়। বিএনপির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে যদি বলা হত তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন, তাহলে আর আমাদের মিছিল করা লাগতো না। কারণ পাগলের কোনো বিচার নেই।
তিনি বলেন, তারা এমন একটি আইন করেছে, যেখানে ছেলে-মেয়ের সম্মতি থাকলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এ ধরনের অবস্থান নেওয়ার কারণ হলো, না হলে নিজেদের দলের নেতাকর্মীদেরই খুঁজে পাবে না।
আতিকুর রহমান/আরকে
