শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় ফি জমা দিলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) কর্তৃপক্ষ তা হিসাব খাতায় তুলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। সেশন ফি, পরিবহন ফিসহ বিভিন্ন ধরনের ফি জমা দেওয়ার পরও এসব তথ্য রেকর্ডে না থাকায় সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
অভিযোগ রয়েছে, জমা দেওয়া টাকার রশিদ দেখাতে না পারলে অনেক শিক্ষার্থীকে পুনরায় ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। অ্যাকাডেমিক শাখার কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণেই এ ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। এ নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী জানতে চাইলে এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, ২০২৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কুরআন, আল-হাদিস, দাওয়াহ ও আরবি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়নকালে ইবি শাখা অগ্রণী ব্যাংকে সেশন ফি ও পরিবহন ফি জমা দেন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তীতে এসব তথ্য অ্যাকাডেমিক শাখার হিসাব খাতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। ফলে সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলনের সময় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফি বকেয়ার হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব অ্যাকাডেমিক শাখার হলেও কর্মকর্তারা সেই তথ্য শিক্ষার্থীদের কাছেই চাচ্ছেন। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে আন্দাজের ভিত্তিতে বকেয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করে দিচ্ছেন তারা। এতে সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট তুলতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের জমা দেওয়া ফি-র রশিদ দেখাতে হচ্ছে। রশিদ দেখাতে না পারলে অনেককে পুনরায় টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। অন্যথায় তারা সনদ উত্তোলন করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন ধরেই অ্যাকাডেমিক শাখায় এ ধরনের সমস্যা চলছে বলে জানা গেছে। শুধু এই চারটি বিভাগ নয়, আরও কয়েকটি বিভাগেও একই ধরনের সমস্যার অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
অ্যাকাডেমিক শাখার দাবি, শিক্ষার্থীরা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট রশিদ তাদের শাখায় পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে সেই রশিদ তারা পাননি বলে জানায় তারা। অন্যদিকে, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ভিন্ন কথা বলছে। ব্যাংকের দাবি, শিক্ষার্থীদের জমা দেওয়া ফি-সংক্রান্ত রশিদ এক থেকে দুই দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাডেমিক শাখায় ও হিসাব শাখায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট উত্তোলন করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী। কিছু দিন পূর্বে আল-কুরআন বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল, আব্দুল্লাহ, তানজিল ও মিনহাজ এবং আল-হাদিস বিভাগের শিক্ষার্থী শোয়াইব সনদ উত্তোলনের জন্য অ্যাকাডেমিক শাখায় যান। এ সময় মিনহাজ তার সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট–সংক্রান্ত কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিতে গেলে অ্যাকাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার মহিউদ্দিন হাওলাদার তাকে জানান, তার ছয়টি ফি বকেয়া রয়েছে। পরে মিনহাজ প্রমাণ হিসেবে রশিদ দেখালে তিনি কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে মিনহাজ বলেন, আমার বকেয়া দুটি ফি ছিল। তবে কর্মকর্তা জানান, ছয়টি ফি বকেয়া রয়েছে। পরে রশিদ দেখানোর পর তিনি স্বাক্ষর করেন। আজ যদি রশিদ দেখাতে না পারতাম, তাহলে হয়তো আমাকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হতো।
আরেক শিক্ষার্থী তানজিল বলেন, আমাকে বলছে কয়েকটি ফি বকেয়া রয়েছে। অথচ আমার এক টাকাও বাকি ছিল না। স্বাক্ষরের জন্য আমাকে রশিদ দেখাতে বলা হলো। দুটি রশিদ বাসায় রেখে আসায় তা দেখাতে পারিনি। পরে তারা স্বাক্ষর করেননি।
এ বিষয়ে অ্যাকাডেমিক শাখার কর্মকর্তা মহিউদ্দিন হাওলাদার বলেন, কিছু বিভাগের শিক্ষার্থীদের সেশন ও পরিবহন ফি-র রশিদ ব্যাংক থেকে এখনো আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। এ কারণেই এ ধরনের সমস্যা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অ্যাকাডেমিক শাখার প্রধান উপ-রেজিস্ট্রার আলীবদ্দীন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানে ব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
অগ্রণী ব্যাংক ইবি শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক নাদিম রেজা বলেন, রশিদগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাংকের নামে মিথ্যা বলছে। বরং তারাই রশিদ হারিয়ে ফেলছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে অ্যাকাডেমিক শাখা ব্যাংকের কাছে পূর্বের রশিদগুলোর কপি চেয়ে একটি নোট দিয়েছে। পরে আমরা ব্যাংকে সংরক্ষিত রশিদগুলোর ফটোকপি তাদের দিয়েছি। যদিও ব্যাংকের জিনিস বাহিরে দেওয়ার নিয়ম নেই।
মাওয়াজুর রহমান/এনটি
