হল থেকে ব্যক্তিগত তথ্যের নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সৈয়দ আমীর আলী হল সংসদের ভিপি মো. নাঈম ইসলামের আবাসিকতা বাতিল করেছেন হল প্রাধ্যক্ষ। সোমবার (২৯ জুন) হল প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হারুনর রশিদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার সিট বাতিলের বিষয়টি জানানো হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দরিদ্র কোটায় আবেদন করে হলে ওঠেন হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা। এই তথ্যটি অফিস থেকে সংগ্রহ করেন ওই হল সংসদের ভিপি নাঈম ইসলাম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন মতিহার হল সংসদের ভিপি। এর পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের অভিযোগে হল প্রাধ্যক্ষ বরাবর নাঈম ইসলামের হলের আবাসিকতা বাতিলের আবেদন করেন ওই ছাত্রদল নেতা।
এদিকে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক হারুনর রশিদ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অত্র হলের একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য হল কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে হস্তগত ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছেন। উপর্যুক্ত কার্যক্রম হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল ও প্রশাসনিক বিধি-বিধানের পরিপন্থি। এমতাবস্থায় অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ও হল প্রশাসনের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আপনার আবাসিকতা বাতিল করা হলো। অতএব, আপনাকে আগামী ২ জুলাইয়ের মধ্যে আপনার দখলে থাকা ২৪৮ নম্বর কক্ষটি খালি করে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হলো।
সিট বাতিলের প্রতিবাদে হল সংসদ নেতারা প্রাধ্যক্ষের কক্ষের আশেপাশে পোস্টার টাঙিয়ে দিয়েছেন। যেখানে লেখা রয়েছে ‘শিক্ষকের কলম হোক নিরপেক্ষ, প্রভোস্টের আচরণ হোক শিক্ষকসুলভ। প্রভোস্ট নেতা নয়, শিক্ষক চাই, হারুন স্যারের মেসে দলীয় হলে সিট খালি আছে, দলান্ধ নাকি প্রভোস্ট। দলীয় দাসত্ব পরিহার করো, স্বাধীন শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করো'৷
জানতে চাইলে হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) মো. নাঈম ইসলাম বলেন, হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আমির হামজা আমার আবাসিকতা বাতিলের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরও আমি সিট দখল করে আছি। অথচ প্রাধ্যক্ষ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দায়িত্বকাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত সকল হল সংসদের প্রতিনিধিগণ হলে থাকতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি ছাত্রদলের ওই নেতার ডকুমেন্টস অফিস থেকে সংগ্রহ করি। তখন দেখতে পাই, সে নিজেই দারিদ্র্য কোটায় সিট পেয়েছে। অথচ তার চলাফেরা দেখে বুঝা যায়, সে এই প্রক্রিয়ায় হলে সিট পাওয়ার যোগ্য নয়।
এদিকে অন্য একজন শিক্ষার্থী এই ডকুমেন্টস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে। যার ফলে ছাত্রদল নেতা আমার বিরুদ্ধে প্রাধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ দেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমার সিট বাতিল করে একটি চিঠি পাঠায় ও ২ জুলাইয়ের মধ্যে চলে যেতে বলা হয়। আমি বলেছি স্যার, আমি তো এইটা অফিস থেকে নিয়েছি। চুরি করিনি। তিনি বলেন, আমরা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েছি এবং দেওয়ালে ফেস্টুন টানিয়েছি।
অভিযোগকারী হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমির হামজা বলেন, তিনি আমার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করেছেন। আমাকে সিট দেওয়ায় তারা হাঙ্গামা শুরু করেছিলেন। আমি জানতে পারি, হল সংসদের ভিপি নাঈম ভাইয়ের ছাত্রত্ব শেষ। তিনি কবে বিদায় নেবেন তা জানতে চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেছি। প্রভোস্ট কাউন্সিল তাদের দায়িত্ব থাকা পর্যন্ত হলে থাকার অনুমতি দিয়েছেন; তা আমি জানতাম না। এরপর তারা হলের কর্মচারী থেকে আমার ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। দরিদ্র কোটার আবেদন পাবলিক করে দিয়েছেন। আমার পারিবারিক অবস্থা খারাপ দেখে যে একেবারে দরিদ্রদের মতো ভিক্ষা করে চলতে হবে তাতো না! আমি আমার মতো চলি।
সৈয়দ আমীর আলী হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ হারুনর রশিদ বলেন, একজন শিক্ষার্থী তার ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ায় আমার কাছে আবেদন জানায় এবং এর বিচার দাবি করে। একজনের ব্যক্তিগত তথ্য হল থেকে বিনা অনুমতিতে সংগ্রহ করা এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা গুরুতর অপরাধ। তাই নাঈম ইসলামের হলের সিট বাতিল করা হয়েছে। তবে ভিসি স্যার রিকুয়েস্ট করেছেন, যেন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করি।
জুবায়ের জিসান/এসএইচএ
