চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) উদ্যোগে ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল লিমিটেডের সহযোগিতায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রায় ১ হাজার ৫০০ নারী শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে সকাল সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই মেডিকেল ক্যাম্প চলে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা চারটি বিভাগের ৯ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছ থেকে সেবা নেন। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে গাইনোকোলজি, নিউট্রিশন, মেডিসিন ও ডার্মাটোলজি। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী রোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এতে প্রায় ১২টি বুথ দেখা যায়। এর মধ্যে প্রাইমারী চেকআপ বুথ ২টি, মেডিসিন বুথ ৪টি, গাইনোকলজি বুথ ২টি, ডার্মাটোলজি বুথ ৩টি ও নিউট্রিশন বুথ ছিল ১টি।
চিকিৎসাসেবা নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, চাকসুর এ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। কারণ আমার ডার্মাটোলজি বিভাগের ডাক্তার দেখানোর জন্য শহরে যাওয়া লাগে। তবে আজ ক্যাম্পাসেই আমি ডাক্তার দেখাতে পেরেছি এবং ফ্রিতে ওষুধও পেয়েছি। আর আমাদের ক্যাম্পাস শহর থেকে দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা পায় না। তাই ক্যাম্পাসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প পেয়ে আমরা সত্যিই আনন্দিত।
এর আগে সকাল ১০টায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প সেবার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. একেএম ফজলুল হক। এ সময় চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন (অ্যাকাডেমিক)। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো সফিকুল ইসলাম (প্রশাসন) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের বোর্ড অব ডিরেক্টরস আমেনা শাহীন। আরও উপস্থিত ছিলেন চাকসুর জিএস সাঈদ বিন হাবিব, এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিক, ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক নাহিমা আক্তার দীপা ও সহ-ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা।
আয়োজন সম্পর্কে চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, আমরা নির্বাচনের পর থেকে পাঁচ-ছয় ঘণ্টার বেশি ঘুমাতে পারি না। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর শিক্ষার্থীদের অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সততা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পালন করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই, প্রতি বছর যেন নিয়মিত চাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানাচ্ছি।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. একেএম ফজলুল হক বলেন, চাকসুর উদ্যোগে কিছুদিন আগেও আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প চালিয়েছি। আমরা এমন উদ্যোগ নিতে চাচ্ছি যাতে চিকিৎসার জন্য কাউকে ঢাকা বা অন্য কোথাও যেতে না হয়। এর জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। আগামীতে আমরা বিশেষায়িত হাসপাতাল করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন টেস্টে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়ারও কথা হয়েছে।
চাকসুর বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতাল ও চাকসুর যৌথ উদ্যোগটি প্রশংসনীয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান চিকিৎসাসেবায় সব ধরনের প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ছাত্রীদের বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত সমস্যা সময়মতো সমাধান করা যায় না। তাই শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণে চাকসুর মতো বিভিন্ন সংগঠনের এমন ইতিবাচক উদ্যোগ অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।
আরএআর
