রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ২০২৪ সালের বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি বিজড়িত এই ক্যাম্পাস ২০২৪ সালের আজকের এইদিন (৩ জুলাই) যেন থমকে গিয়েছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীদের ত্রিমুখী আন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছিল ক্লাস-পরীক্ষা, প্রশাসনিকসহ প্রায় সকল কার্যক্রম।
হাইকোর্টের রায়ে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ ৫৬ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের আদেশের বিরুদ্ধে এবং ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থীরা।
সেদিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডিয়া চত্বরে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১নম্বর গেট (বর্তমান শহীদ আবু সাঈদ গেট) এর সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবি পেশ করেন। দাবিগুলো হলো-
১. ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখা। ২. পরিপত্র বহাল-সাপেক্ষে কমিশন গঠনপূর্বক দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দেওয়া (সুবিধাবঞ্চিত ও প্রতিবন্ধী ব্যতীত)। ৩. দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪.সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দেওয়া।
আজকের এই দিনে বৈষম্যমূলক পেনশন স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী পূর্ণদিবস সর্বাত্মক কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছিল বেরোবি শিক্ষক সমিতি। এর আগে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল ক্লাস ও পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়। এতে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম।
অন্যদিকে, আজকের এই দিনে সর্বজনীন পেনশন স্কিম সংক্রান্ত প্রত্যয় স্কিম বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন ও কর্মবিরতির পর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু করেছিল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এসময় বন্ধ রাখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের যাবতীয় কার্যক্রম। এ ছাড়া অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকেও তারা বিরত ছিলেন। তারা শিক্ষকদের সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং কর্মবিরতি পালন করেন।
রিপন শাহরিয়ার/এসএইচএ
