রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের এই ক্যাম্পাসে তার স্মৃতি সংরক্ষণসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের জন্য হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প দুই বছরেও দেখেনি আলোর মুখ। তোরণ, জাদুঘর, স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প ও স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হলেও সে পর্যন্তই যেন শেষ কার্যক্রম।
জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বেরোবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতি সংরক্ষণে এক হাজার ৯০ কোটি টাকার একটি মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের বিষয়ে আশ্বাস দেন। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটে (বর্তমান শহীদ আবু সাঈদ গেট) ‘আবু সাঈদ তোরণ ও মিউজিয়াম’ এবং পার্ক মোড়ে (বর্তমান শহীদ আবু সাঈদ চত্বর) ‘শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভ’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
ভিত্তিপ্রস্তর অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ইউজিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম মহানায়কের স্মৃতি সংরক্ষণে ভিত্তিপ্রস্তরের ফলকটি কেবল অযত্নে আর অবহেলায় পড়ে আছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এসে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে কোনো স্থায়ী কাঠামো না দেখে যেন একরাশ হতাশা নিয়েই ফিরছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বিভিন্ন সেমিনার এবং বক্তৃতায় শহীদ আবু সাঈদের নাম ব্যবহার করে বাহবা কুড়াচ্ছেন। কিন্তু যে মেগা প্রজেক্টটি আবু সাঈদের বীরত্বকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে জীবন্ত করে রাখত, তা দুই বছরেও শুরু না হওয়া প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। তারা কেবল সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এটি ব্যবহার করছেন, বাস্তবায়নে তাদের কোনো আন্তরিকতা নেই।
তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন এবং বাজেট বরাদ্দের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ চলছে।
বেরোবি শিক্ষার্থীদের দাবি, জুলাই বিপ্লবের দুই বছর পূর্তিতে এসেও যদি প্রথম শহীদের তোরণ ও জাদুঘর আলোর মুখ না দেখে, তবে তা ইতিহাসের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তারা অবিলম্বে আমলাতান্ত্রিক লালফিতার দৌরাত্ম্য কমিয়ে এ মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার জোর দাবি জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক এ.টি.জি.এম গোলাম ফিরোজ বলেন, আমরা ডিপিপি সাবমিট করেছি। এটা প্রথমে ইউজিসিতে যাবে তারপর সেখান থেকে পাস হয়ে হয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্ল্যানিং ও একনেকে পাশ হলেই চূড়ান্ত কাজ শুরু হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, আমাদের কাজ আমরা করে দিয়েছি, এটা এখন প্রক্রিয়াধীন এবং সরকারের সবুজ পাতায় নাম রয়েছে বা তালিকায় রয়েছে। আবু সাঈদ গেট ও জাদুঘরের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, মেগা প্রকল্পটি আমরা ইউজিসিতে জমা দিয়েছি। যাচাই-বাছাইয়ের পর সেটি একনেকে পাঠানো হবে। আশা করি, দ্রুত আমরা বাজেট পাব।
এসএইচএ
