জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মরণে দ্বিতীয়বারের মতো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘শহীদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট (সিজন-২)’ শুরু হয়েছে। টুর্নামেন্টটির উদ্বোধন করেছেন শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম।
শনিবার (৫ জুলাই) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী। এ সময় শহীদ আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম, বড় ভাই রমজান আলী ও বোন সুমি খাতুনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। বেলুন উড়িয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মনোয়ারা বেগম।
এ সময় তিনি তার ছেলে আবু সাঈদের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।
আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমার ভাইয়ের স্মরণে যে আয়োজন করছে এর জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের নাম যুগে যুগে লালিত হবে তাদের স্মরণ করা হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
বেরোবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. শওকাত আলী বলেন, শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ স্মরণে আজকের এই টুর্নামেন্ট। গতবছরেও আয়োজন করেছি এবারেও। আমরা প্রতিবছর এটি করতে চাই। আমরা আগামী ১৬ জুলাই জাতীয়ভাবে জুলাই শহীদ দিবস আয়োজন করব। সেখানে মন্ত্রীরাও উপস্থিত থাকবেন। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আমাদের সাথে যুক্ত হবেন।
শহীদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের আহ্বায়ক ও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ইসমাইল হোসেন বলেন, আশা করি আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো টুর্নামেন্ট উপহার দিবে। এজন্য সবার সহযোগিতা কামনা করছি। খেলায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে। সবার জায়গা থেকেই যেন সবাই সহনশীল হয়। আমরা সুন্দরভাবে, সুশৃঙ্খলভাবে শহীদ আবু সাঈদ টুর্নামেন্টটি শেষ করতে চাই।
প্রসঙ্গত, এবারের এই টুর্নামেন্টে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২টি বিভাগের ২২টি ছেলেদের দল এবং ৪টি প্রমিলা টিমসহ মোট ২৬টি দল অংশগ্রহণ করছে। গত বছর প্রথমবারের মতো শহীদ আবু সাঈদ আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এবারে আয়োজন করা হয়েছে সিজন-২ ।
রিপন শাহরিয়ার/এসএইচএ
