বিজ্ঞাপন

ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে অছাত্ররা

ইবি ছাত্রদলের নতুন কমিটিতে শীর্ষ পদে অছাত্ররা

দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর পর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রত্বহীন নেতৃত্ব ও আঞ্চলিক ভারসাম্য নিয়ে সংগঠনটির ভেতরে অসন্তোষ ও অন্তঃকোন্দল দেখা দিয়েছে। বিবাহিত ও অছাত্রদের কমিটির শীর্ষে পদায়ন এবং একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের আধিপত্যের কারণে ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এই কমিটিকে ‘শৈলকুপা উপজেলা কমিটি’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষ করছেন।

কমিটি ঘোষণার পর সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুনকে নিয়ে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের  শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিবাহিত এবং বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কোনো ছাত্রত্ব নেই। সংগঠনের নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী যেখানে বিবাহিতদের ন্যূনতম সদস্য হওয়ারও যোগ্যতা নেই, সেখানে তাকে শীর্ষ পদ দেওয়ায় ক্ষুব্ধ সাধারণ নেতাকর্মীরা। 

এ ছাড়াও যুগ্ম আহ্বায়ক পদের একাধিক নেতার ছাত্রত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নেতাকর্মীদের দাবি, যুগ্ন আহ্বায়ক পদে মনোনীত বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আবু সাঈদ রনি, ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির হোসাইন, আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ইংরেজি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের তাপস অধিকারী কারোই বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রত্ব নেই।

এদিকে কমিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করছেন পদপ্রাপ্ত ও পদবঞ্চিত একাধিক নেতাকর্মী। তাদের মূল অভিযোগ, কমিটিতে নেতৃত্বের আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখা হয়নি। বিশেষ করে শৈলকুপা এলাকার নেতাকর্মীদের অতিরিক্ত প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। 

জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ তার ফেসবুক পেজে লেখেন, উপজেলা কমিটি, ভাগ্য নাকি লবিং? কুষ্টিয়া জেলা জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকেরা একদিন বুঝবেন, ইনশাআল্লাহ। প্রকৃতির বিচার অবধারিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ৩৯ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির ১৪ জনই শৈলকুপা উপজেলার। তারা হলেন— আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্যসচিব রাফিজ আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির হোসাইন, আবু সাঈদ রনি, তাপস অধিকারী, রিফাত হোসাইন ও নয়ন হোসেন। এ ছাড়াও সদস্য রয়েছেন রিয়াজ উদ্দিন, মেহমুদ হাসান উৎস, সজিব হোসাইন, মাহফুজা খাতুন, নকিবুল ইসলাম অংকন, এনামুল হক পুলক ও মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের একাধিক নেতাকর্মী বলেন, আমরা চেয়েছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। তবে প্রকাশিত কমিটির শীর্ষ পদের অধিকাংশই অছাত্র। এ ছাড়াও আহ্বায়কের বিরুদ্ধে বিবাহের অভিযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন পত্রপত্রিকার তথ্যে উঠে এসেছে। ৫ আগস্টের আগে সক্রিয় ও দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

এ বিষয়ে ইবি ছাত্রদলের নবনিযুক্ত আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে অনেকের মতো করে মন্তব্য করবেই। তবে কেন্দ্রীয় কমিটি যাকে যোগ্য মনে করেছে, তাকেই পদে এনেছে। আমার বিরুদ্ধে আগে বিবাহের যে অভিযোগ উঠেছিল, তার কোনো ভিত্তি নেই। আমার স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর শেষ, তবে আমি মানোন্নয়নের জন্য আবেদন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমার আবেদন মঞ্জুর করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন আজাদ আহ্বায়কের মানোন্নয়নের বিষয়ে বলেন, অনেকদিন আগেই তিনি মানোন্নয়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। বিভাগের অ্যাকাডেমিক কমিটি মানোন্নয়নের জন্য প্রশাসনের কাছে সুপারিশ করেছেন। পরবর্তীতে তা সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে।

মাওয়াজুর রহমান/আরএআর