বিজ্ঞাপন

‘হারানো সাজিদকে তো আর পাব না, বিচারটাও কি পাব না!’

‘হারানো সাজিদকে তো আর পাব না, বিচারটাও কি পাব না!’

হত্যাকাণ্ডের শিকার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেছেন, ‘আমি আমার ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় হয়ে গেছি। কথা বলতে গিয়ে আটকে যাই। এক বছর পার হওয়ার পরও বিচার না হওয়াটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত? আর যাকে আমি হারিয়েছি তাকে তো পাব না। বিচারটাও কি পাব না? এক বছর লাগবে কেন? এতো তো লাগার কথা না। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিচার নিশ্চিত করার জন্য আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই।’

রোববার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন, দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি কিন্তু আর যেন কাউকে না হারাইতে হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই। সকল প্রকার সন্ত্রাসী কার্যক্রম যেন এখানে বন্ধ রাখা হয় সেই আহ্বান জানাই। এক বছর পরে এখানে দাঁড়িয়ে বিচার চাইতে হবে এটা চিন্তাও করি নাই। কেন এখন পর্যন্ত একজন আসামি গ্রেপ্তারও হল না? ​এটা তো দুঃখজনক ব্যাপার। এত ভারাক্রান্ত কথা তো মুখ দিয়ে আসতে চায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনকে আহ্বান জানাই, ​শহীদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার করেন। দায়মুক্ত হন। আইন আছে, আদালত আছে। আল্লাহ তো বিচার চাওয়ার এই অধিকার আমাকে দিয়েছেন। তাহলে বিচার করতে অসুবিধাটা কী? এখানে যত দাবি পেশ করা হয়েছে, আমি সবগুলোর সাথে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আমি ধুঁকে ধুঁকে মরে যাচ্ছি। আর পারছি না। আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। আন্দোলন চালিয়ে যান। প্রয়োজনে আমি টাঙ্গাইল থেকে আবার আসবো। তবুও আমি এটার বিচার চাই।’

মানববন্ধনে আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন মিঝি, ড. খান মুহাম্মাদ ইলিয়াস, শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী, শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, শাখা জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীমসহ বিভাগটির প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। 

এসময় তারা ‘সাজিদ হত্যার তদন্ত, আর নয় বিলম্ব’, ‘​​বিচার, বিচার, বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘​তদন্ত নিয়ে টালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘​সাজিদ হত্যার তদন্ত, করতে হবে করতে হবে’, ‘​আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘​সাজিদ ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘​খুনি ধর, জেলে ভর’, ‘​খুনিদের ফাঁসি দাও, রশি লাগলে রশি নাও’, ‘​​সাজিদ ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’,  ‘​Justice, Justice, We want Justice’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার বিচার কার্যক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে পূর্বের প্রশাসন। তার পরেই আসমা শাদিয়া রুমা ম্যামকে হত্যা করা হয়েছে। আজকে যদি সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনিদেরকে বের করা হত, তাহলে রুনা ম্যাম হত্যার শিকার হতেন না। অনতিবিলম্বে আমরা সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে একটি হল বা স্থাপনাকে নামকরণ করার দাবি জানাই। একইসাথে সাজিদ মারা যাওয়ার পর আর্থিক ক্ষতিপূরণের যে ওয়াদা করা হয়েছিল, অনতিবিলম্বে তা প্রদান করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সাজিদ আবদুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত ১৭ জুলাই সন্ধ্যা ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় তার পরিবার ও সহপাঠীরা অভিযোগ করেন, সাজিদকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে জানা গেছে, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছিল।

গত ৪ আগস্ট ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় হত্যা মামলা করেন সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলওয়ার। মামলায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলাটি প্রথমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার পুলিশ তদন্ত করলেও পরে সিআইডিতে চলে যায়।

মাওয়াজুর রহমান/এসএইচএ