বিজ্ঞাপন

দুই মাস তালাবদ্ধ কার্যালয়, অবশেষে জাবি প্রক্টরের পদত্যাগ

দুই মাস তালাবদ্ধ কার্যালয়, অবশেষে জাবি প্রক্টরের পদত্যাগ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে কার্যালয় তালাবদ্ধ থাকা, প্রশাসনিক অসহযোগিতা এবং অভ্যন্তরীণ নানা টানাপোড়েনের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলম। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ২ মাস ১৩ দিন ধরে প্রক্টর কার্যালয় কেন্দ্রিক চলা অনিশ্চয়তা ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের গুঞ্জনের অবসান ঘটল।

বুধবার (২৯ জুলাই) সদ্য বিদায়ী প্রক্টরের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে সাময়িকভাবে প্রক্টর পদের দায়িত্ব দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। 

অফিস আদেশে জানানো হয়, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. রাশিদুল আলমের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। একই সাথে ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখ অপরাহ্ন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনকে সাময়িকভাবে নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন এবং দায়িত্ব হস্তান্তর-সংক্রান্ত নথি যথাসময়ে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। তারা প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবিতে প্রক্টর কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। পরবর্তীতে প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলে প্রায় দুই মাস ১৩ দিন ধরে তালাবদ্ধই রয়ে যায় কার্যালয়টি। এতদিন প্রক্টরকে জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, নিজের বিভাগ কিংবা হলের কার্যালয়ে বসে বিকল্প উপায়ে প্রশাসনিক কাজ চালাতে হচ্ছিল।

দায়িত্ব নেওয়ার পর ক্যাম্পাসে মাদকমুক্ত পরিবেশ গঠন ও র‍্যাগিং প্রতিরোধসহ শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোর ভূমিকা পালন করেছিলেন বিদায়ী প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জাকসু নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নেওয়া এবং ২৫টি পদের মধ্যে ২০টিতে শিবির-সমর্থিত প্রার্থীরা জয়লাভ করার পর তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ওঠে যে, তিনি জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন। ক্যাম্পাসে তার এমন কঠোর শৃঙ্খলা রক্ষা এবং জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার অবস্থানের কারণেই পরবর্তীতে ছাত্রদল ও প্রতিপক্ষ শিক্ষক বলয় থেকে তাকে ‘শিবিরঘেঁষা শিক্ষক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চালানো হয়।

গত ১৪ জুন উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান প্রক্টর কার্যালয় খুলে দেওয়ার বিষয়ে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত ও তদন্ত কমিটির রিপোর্টের কথা জানালেও আন্দোলনের মুখে তা সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রক্টরিয়াল সেবা ব্যাহত হচ্ছিল এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বাড়ছিল। প্রশাসনিক অচলাবস্থা ও টানা চাপের মুখে অবশেষে অধ্যাপক রাশিদুল আলম পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন, যা গ্রহণের পরপরই প্রক্টর পদে এই নতুন পরিবর্তন আনল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এদিকে আকস্মিক এই দায়িত্ব রদবদলের পর নতুন প্রক্টর অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন জানান, ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা রক্ষা ও শিক্ষার্থীদের জন্য এক নিরাপদ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই হবে তার প্রথম অগ্রাধিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

আরএআর