বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারির এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো দায়িত্বে যোগদান করতে পারেননি জবি অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার।
এদিকে তার যোগদানকে কেন্দ্র করে বেরোবি ক্যাম্পাসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল ধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধ সত্ত্বেও তাকে ট্রেজারার হিসেবে না মানার ঘোষণা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাজনীতিভিত্তিক সংগঠন বেরোবি জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরাম একটি ব্যানার টানিয়েছে।
এর আগে, ২৩ জুলাই রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. সুলতান আহমেদের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নিয়োগ প্রদানের প্রজ্ঞাপন জারির এক সপ্তাহ পেরোলেও এখন পর্যন্ত তিনি যোগদান করতে পারেননি।
এদিকে ট্রেজারারের যোগদান প্রজ্ঞাপন দেখেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ফোরামের ব্যানার টানানো হয়েছে। ব্যানারে লেখা হয়েছে,কট্টর বিএনপি বিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষের শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে মানি না।
এ বিষয়ে বেরোবি রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করার পরও কেন যোগদান করছে না সেটা তিনি ভালো বলতে পারবেন। আমি জানি না, ঠিক কী কারণে তিনি প্রজ্ঞাপন হওয়ার পরও যোগদান করছে না।
নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকার বলেন, ‘আপাতত প্রশাসনের তরফ থেকে বিষয়টি হোল্ডআপ হয়ে আছে। যখন আমাকে যোগদানের জন্য বলা হবে, তখনই আমি দায়িত্ব গ্রহণ করব।
তার বিরুদ্ধে ওঠা ‘কট্টর বিএনপিবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির পক্ষের শিক্ষক’—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা এ অভিযোগ করছে, তারা কি কোনো প্রমাণ দেখাতে পেরেছে? এমন অভিযোগ আমিও যে কারও বিরুদ্ধে করতে পারি। সরকারি যাচাই-বাছাই ছাড়া কি আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে? এসব সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে বেরোবির ট্রেজারার পদটি শূন্য ছিল। সেই শূন্য পদে অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে নিয়োগ দেয় সরকার।
রিপন শাহরিয়ার/এনটি
