বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, আমাদের অনেকগুলো প্রচেষ্টার মধ্যে একটি হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করা। প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে হাই স্পিড ইন্টারনেট, ওয়াইফাই সিস্টেম ও স্মার্ট ক্লাসরুম থাকবে। সেই সাথে আমাদের বড় একটি পরিকল্পনা, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে স্মার্ট ক্যাম্পাস হিসেবে নিশ্চিত করা হবে। যেকোনো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রথম দিন থেকে বের হয়ে যাওয়া পর্যন্ত এবং এরপরেও প্রাক্তন শিক্ষার্থী হিসেবে ডিজিটালি সংযুক্ত থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) স্নাতক প্রথম বর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বাকৃবির শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এই নবীনবরণের আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটি।
এ সময় ড. মামুন আরও বলেন, বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষির উন্নতি, দেশের উন্নতিতে সবচাইতে বেশি বুদ্ধিবৃত্তিক, গবেষণালব্ধ সহযোগিতা যে প্রতিষ্ঠান করেছে সেটি হচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। নবীন শিক্ষার্থীরা এই দেশের কৃষির ঐতিহ্যকে ধারণ ও বহন করবে এবং এই ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
ছাত্র-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর মাঝে সম্পর্ক থাকবে অসাধারণ। যদি ছাত্র ও শিক্ষকের মাঝে সুসম্পর্ক না থাকে কোনভাবেই একটি প্রতিষ্ঠান এগিয়ে নেওয়া সম্ভব না।
নবীনবরণ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং বাকৃবির ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে ও সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিন পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রভোস্ট পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ড. মো. রুহুল আমিন, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আবদুল আলীম এবং রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবীনদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। এ সময় তাদেরকে ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এরপরে নবাগতদের উদ্দেশ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সূচনা থেকে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সকল শাখার পরিচালক ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রক্টর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম শৃঙ্খলা নিয়ে তাদেরকে দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় প্রভোস্ট পরিষদের আহ্বায়ক বিভিন্ন হলের প্রভোস্টদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক সকল অনুষদের ডিন ও বিভাগের সাথে নবীনদের পরিচয় করিয়ে দেন।
পরিচয় পর্ব শেষে নবীনদের উদ্দেশ্যে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, আমাদের গ্ৰাজুয়েটরা পুরো বিশ্বে দাপটের সাথে সকল সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছে। তোমাদেরও দক্ষ ও জ্ঞানসম্পন্ন গ্ৰাজুয়েট হিসেবে বাকৃবি থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সম্মান অক্ষুন্ন রাখতে হবে। শুধু প্রিন্ট করা শীট বা বিভিন্ন এআই টুলসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে পাঠ্যপুস্তক নির্ভর হতে হবে। দেশের কৃষি ও কৃষকদের ভরসাস্থল হতে হবে এবং তাদের পাশে থাকতে হবে।'
মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর/এনটি
