ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর এবং সরকার পতনের সংবাদ নিশ্চিত হওয়ার পরও সাভারে পুলিশি হিংস্রতায় কমপক্ষে ৬০ জন ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সন্ধ্যা সাতটায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: স্মৃতি, শ্রদ্ধা ও প্রত্যয়ের সন্ধ্যা’ শীর্ষক আলোচনা ও স্মারক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সাভারে পুলিশের নির্মমতার চিত্র তুলে ধরে ডা. সালাউদ্দিন বাবু বলেন, ৫ আগস্টের পর যখন পুরো দেশ মুক্ত, তখনও সাভারে দুটি থানা থেকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আন্দোলনকারীদের হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত এসপি কাফির নির্দেশে ছয় তরুণকে গুলি করে হত্যা করার পর পিকআপ ভ্যানে লাশ পুড়িয়ে প্রমান লোপাটের চেষ্টা চালানো হয়। একজন শিক্ষিত ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার এমন দানবীয় রূপ প্রমাণ করে, গত ১৭ বছরে শেখ হাসিনা দেশে প্রচুর শিক্ষিত অমানুষ তৈরি করেছেন এবং মানুষের বিবেকবোধকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ও ছাত্রদলের সক্রিয় অংশগ্রহণে যে গণঅভ্যুত্থান অর্জিত হয়েছে, তা কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। আমাদের এখন প্রধান লক্ষ্য হতে হবে—গত ১৭ বছরের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি শান্তিময় ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তবেই জুলাইয়ের শহীদ ও পঙ্গুত্ব বরণকারী হাজারো বীরের আত্মা শান্তি পাবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ফ্যাসিস্ট শক্তি ভালো করেই জানতেন ৮ হাজার কিলোমিটার দূরে কোথায় জুলাই আন্দোলনের মূল মাস্টারমাইন্ড থাকেন।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ ছিল দেশের জন্ম আর ২০২৪-এর আন্দোলন ছিল প্রায় মরণব্যাধি ক্যান্সার থেকে দেশকে মুক্ত করার ঐতিহাসিক লড়াই। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী কিছু বিশৃঙ্খলাকে অজুহাত বানিয়ে ২৪-এর ঐতিহাসিক জুলাইকে ছোট করার কোনো সুযোগ নেই।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ওয়াসীম আহমেদ অনিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল রানা, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মাফি সাত্তারসহ অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
মুহাম্মদ সাব্বির/এনটি
