বিজ্ঞাপন

রাবিতে চার বছরে ৩৬০৩ শিক্ষার্থী পেলেন ২ কোটি টাকার স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা

রাবিতে চার বছরে ৩৬০৩ শিক্ষার্থী পেলেন ২ কোটি টাকার স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক চাপ কমাতে চালু করা স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প ৪ বছরে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পটির আওতায় ৩ হাজার ৬০৩ শিক্ষার্থী মোট ২ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫১ টাকা স্বাস্থ্য বীমা সুবিধা পেয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মতে, স্বল্প প্রিমিয়ামে চালু হওয়া এই বীমা প্রকল্প অসুস্থ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে।

গত ২৬ এপ্রিল প্রকাশিত জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ‘ক্লেইম রিপোর্ট অন রাজশাহী ইউনিভার্সিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ক্লেইমের তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ বছরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বীমা কোম্পানি প্রিমিয়াম হিসেবে পেয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ ৯৫ হাজার ৩৭৫ টাকা। এর বিপরীতে ৩ হাজার ৬০৩ শিক্ষার্থীকে মোট ২ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার ৮৫১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ১০ জন মৃত শিক্ষার্থীর পরিবারকে দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা। বর্তমানে ২২৫টি ক্লেইম আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি বীমার শর্ত পূরণ না হওয়ায় ৪৯টি আবেদনও যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে, যার দাবির পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ ২৩ হাজার টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের জুলাইয়ে দুই বছরের জন্য জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সঙ্গে স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা চুক্তি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে মেয়াদ শেষ হলে চলতি বছর নতুন করে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে।

এ প্রকল্পে বছরে ২৫০ টাকা প্রিমিয়ামের বিপরীতে একজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিলে নির্ধারিত শর্তে বছরে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পান। এছাড়া কনসালটেশন ফি, মেডিকেল ও প্যাথলজি পরীক্ষার ব্যয়ও এর আওতায় অন্তর্ভুক্ত। বীমা চলাকালে কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হলে তার পরিবার পায় ২ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে বীমা-সংক্রান্ত আলাদা কোনো সেল না থাকলেও বর্তমানে ছাত্র উপদেষ্টার তত্ত্বাবধানে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বীমা অনলাইন সিস্টেম হওয়ায় একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট ru.ac.bd প্রবেশ করলেই নিচে student insurance দেখাবে সেখানে ক্লিক করলে শিক্ষার্থীর আইডি নং ও রেজিষ্ট্রেশন নং দিলেই তার প্রোফাইল চলে আসবে। সেখানে ফরম পূরণ করে সাবমিট করলে ফরম পেয়ে যাবে বীমা কোম্পানি। প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনকারীর ব্যাংক বা রকেট হিসাবের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো হয়।

আরবি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবু হাসনাত আবদুল্লাহ কিডনিতে পাথরের চিকিৎসায় প্রায় ৭৫ হাজার টাকা ব্যয় করেন। পরে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আবেদন করে প্রায় ৭০ হাজার ৫০০ টাকা পান। তিনি বলেন, আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য ৭০ হাজার টাকা অনেক বড় সহায়তা। তবে টাকা পেতে প্রায় তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্যকেন্দ্র না থাকায় কিছুটা ভোগান্তিও পোহাতে হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাসন নজর দিবে বলে আশাবাদী।

অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসানও স্বাস্থ্য বীমা থেকে ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন। তিনি বলেন, জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৪ মাস চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্বাস্থ্য বীমার অর্থ পেয়ে উপকৃত হয়েছি। তবে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করা প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এএইচএম খুরশিদ আলম বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয়ের আর্থিক চাপ কমাতে ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা চালু রয়েছে। ভর্তি ফির সঙ্গে বছরে ২৫০ টাকা প্রিমিয়াম পরিশোধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পান। নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বীমাকৃত শিক্ষার্থীরা মৃত্যুজনিত দাবির ক্ষেত্রে ২ লাখ টাকা, হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে বছরে সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা এবং বহির্বিভাগে চিকিৎসার জন্য বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা-সংক্রান্ত কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের Student Insurance পোর্টালে অনলাইনে জমা দিতে হয়। আবেদনকারীর নিজ নামে ব্যাংক বা রকেট হিসাব থাকতে হবে। নিয়মিত ছাত্রত্ব বহাল থাকলে শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে চিকিৎসা ব্যয়ের দাবি দাখিল করলে প্রাপ্য অর্থ তাদের হিসাবে প্রদান করা হয়। 

জেনিথ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ডেপুটি ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, গত ৪ বছরে আমরা শিক্ষার্থীদের ২ কোটি টাকা পরিশোধ করেছি। এখনো অনেক ক্লেইম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে আমাদের। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রিমিয়াম বাবদ প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ৯৫ হাজার টাকা পেলেও এখন পর্যন্ত আমাদের প্রায় ৪৮ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তারপরও শিক্ষার্থীদের সেবা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীরা শারীরিকভাবে সুস্থ্য থেকে ক্যাম্পাসে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করবে এটাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যাশা। তবে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের অনেকে অসুস্থ্য হতে পারে। মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী হঠাৎ করে অসুস্থ হলে তাদের চিকিৎসার অর্থ জোগাড় করা পরিবারের জন্য বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাস্থ্য বীমা চালু হওয়ায় পর থেকে এসব শিক্ষার্থী এ সুবিধার আওতায় এসে অনেক উপকৃত হয়েছে। এবছর বীমার মেয়াদ শেষে আমরা আবার রিনিউ করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব শিক্ষার্থী জটিল রোগে আক্রান্ত তাদের কে দ্রুত এ সুবিধার আওতায় আসার আহ্বান জানান তিনি।

জুবায়ের জিসান/এমএমবি