জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইকে সামনে রেখে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'July Uprising Run 2026' মিনি ম্যারাথন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম অভিযোগ করে বলেন, জুলাইয়ের পর শুধু ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, কাঙ্ক্ষিত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন আসেনি।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৬টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে প্রায় ১ হাজার রানারের অংশগ্রহণে এই মিনি ম্যারাথনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ম্যারাথনের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, আমরা জুলাই ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছি। রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অর্গানসগুলো—জুডিশিয়ারি, এডমিনিস্ট্রেশন, ডিফেন্স ফোর্স অটোনোমাসলি ফাংশন করবে এবং করাপশন বন্ধ হবে বলে আমরা চেয়েছিলাম। কিন্তু জুলাইয়ের পরে আমরা দেখেছি শুধু ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কার্যত কোনো সংস্কার বা পরিবর্তন হয়নি। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নিজেদের কথার সঙ্গে প্রতারণা করছে। আমরা চাই, সরকার ত্যাগের মূল্যায়ন করুক, অন্যথায় তরুণ সমাজ আবার দাঁড়িয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জুলাই ও আগস্ট মাসকে স্মরণীয় করে রাখতে এবং যুগে যুগে যারা ফ্যাসিস্ট হতে চায়, তাদেরকে বার্তা দেওয়ার জন্যই আমাদের আজকের এই আয়োজন। ছাত্রশিবির যেভাবে শহীদ পরিবার ও জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে, আমরা সেই চেতনাকে বুকে ধারণ করে আগামীর বাংলাদেশ পুনর্নির্মাণ করব। জুলাইয়ের যে আকাঙ্ক্ষা, তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই চেতনা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেব, ইনশাআল্লাহ।
ম্যারাথনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদ, মীর মশাররফ হোসেন হল, ক্যাফেটেরিয়া, ছাত্রী হলসমূহ এবং চৌরঙ্গী প্রদক্ষিণ করে পুনরায় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
এই আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রতিযোগিতা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারীকে ইভেন্ট টি-শার্ট, রানিং কিট, জাতীয় পতাকা এবং ম্যারাথন শেষে সকালের নাস্তা প্রদান করা হয়।
এএমকে
