রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেছেন, জুলাইয়ের পর একটা গোষ্ঠী বলেছিল, “মক্কা বিজয়ের পর রাসুল (স.) সবাইকে মাফ করে দিয়েছিলেন, আমরাও ফ্যাসিস্টদের মাফ করে দিলাম।” কিন্তু আমরা কখনোই ফ্যাসিস্টদের ক্ষমা করবো না।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
ফরিদুল ইসলাম বলেন, জুলাই নিয়ে আমার এমন কিছু স্মৃতি আছে যা আমি কাউকে বলিনি, আমার মনে হয় এখন তা বলা উচিৎ। খুন, গুম, হত্যার সংস্কৃতির কারণেই এই জুলাই সংগঠিত হয়েছিল। জুলাই-পরবর্তী সময়ে এসে এখন একটা গোষ্ঠী আবারও এমন ন্যারেটিভ দাঁড় করাতে চাচ্ছে যা কখনোই কাম্য নয়। ৭১ কে কুক্ষিগত করতে গিয়ে আওয়ামী লীগ যেমন শেষ হয়ে গেছে, একটা গোষ্ঠী যারা জুলাইকে কুক্ষিগত করতে চাচ্ছে, তারাও একদিন শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা অতিতেও কারো সঙ্গে আপোস করিনি বর্তমানেও করবো না। একটা আন্দোলন কার্যকর করতে যে সমন্বয় দরকার আমি নিজে সেটা করেছি। আমি আন্দোলনকারীদের বলেছিলাম, তোমরা কখনো রাজপথ ছেড় না। আন্দোলনে বিভিন্ন বাহিনীর লোকেরা যখন আমাকে হুমকি দিয়েছিল, তখন আমার স্ত্রী আমার হাত ধরে কান্না করেছিল- “তোমার কিছু হয়ে গেলে আমার পরিবারের কি হবে।”
তিনি বলেন, আজ আমরা এইসব কথা বলি না বলে আমাদের ফ্যাসিবাদের দোসর বলে ট্যাগ দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হাবীবুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে আমরা নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। জুলাই আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট আমরা যখন বক্তৃতা করছিলাম, তখন সেই অনুষ্ঠানের ছবি দেখে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার জন্য ফোন করা হয়েছিল। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের চোখ ফাঁকি দিয়ে জুলাই আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করেছে। জুলাই আন্দোলন এক দিনে সফল হয়নি। এ আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতি আরও করুণ ছিল। আমরা সিনিয়র অধ্যাপক হয়েও কোথাও বসার সুযোগ পাইনি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থেকেও আমার মতো একজন শিক্ষক সেখানে কথা বলার সুযোগ পাইনি। আমরা রুয়া নির্বাচন বয়কট করার পরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত দুই বছরে আমাদের সঙ্গে অনেক বৈষম্য করা হয়েছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে এই দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। একটি রাষ্ট্র তখনই এগিয়ে যেতে পারে, যখন সেখানে মানুষের অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং সমঅধিকার নিশ্চিত হয়। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
আলোচনা সভায় বক্তারা অভ্যুত্থানের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ থাকার বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ না থাকলে অভ্যুত্থানবিরোধী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে, যার ফল আমাদের ভুগতে হবে। নতুন বাংলাদেশে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মতো মব কালচার যেন কোনোভাবেই ফিরতে না পারে তার জন্য নির্বাচিত সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. মো. আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি উপউপাচার্য প্রশাসন আব্দুল আলিম ও উপউপাচার্য শিক্ষা ড. মো. মামুনুর রশীদ, প্রধান আলোচক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর মো. রফিকুল ইসলাম, সভাপতি ড. মো. গোলাম সাদিকসহ জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের এবং ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
জুবায়ের জিসান/এএমকে
