ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শহীদুল্লাহ হলে হল সংসদের এজিএস ও শিবির নেতা ইব্রাহিম খলিলের রুমে তার দুই অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগের পর এবার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ওই দুই অভিযুক্ত। জোর করে হুমকি দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে এজিএসের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেলের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তদের একজন ফারহান ভূঁইয়া বলেন, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য তিনি বন্ধুকে নিয়ে ঢাকায় এসেছিলেন এবং আত্মীয় ইব্রাহিম খলিলের কক্ষে রাত যাপন করেন। পরদিন সকালে ইব্রাহিম খলিল ক্লাসে চলে গেলে তারা কিছু সময় বাইরে ঘোরাঘুরি করে আবার কক্ষে ফিরে আসেন।
ফারহানের ভাষ্য, তার বন্ধু আরমান গোসল শেষে খালি গায়ে ছিলেন। পরে দুইজন জানালার পাশে বসে মোবাইলে নাটক দেখছিলেন। এ সময় ইউসুফ আরেফিন রুমেল কক্ষে প্রবেশ করে তাদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, রুমেল তাদের বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং সমকামিতার অভিযোগ স্বীকার করতে চাপ দেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, ‘আমরা ভুল করেছি, শয়তানের ধোঁকায় পড়েছি’— এ ধরনের কথা বলতে বলা হয়। ভয় ও চাপে তারা তা বলতে বাধ্য হন।
ফারহানের দাবি, রুমেল প্রথমে ভিডিও ধারণের কথা অস্বীকার করলেও পরে তাদের দিয়ে বক্তব্য রেকর্ড করেন। তিনি আরও বলেন, রুমেল নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয় দিয়ে তার নির্দেশনা অনুযায়ী কথা বলতে চাপ প্রয়োগ করেন।
অন্য অতিথি আরমানও একই ধরনের অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, তারা মোবাইলে নাটক দেখছিলেন। রুমেল কক্ষে ঢুকে তাদের তিরস্কার করেন এবং পরে একটি ভিডিওতে ‘ভুল স্বীকারের’ বক্তব্য দিতে বলেন। পরিস্থিতির চাপে তারা সেই বক্তব্য দেন।
আরমান বলেন, ঘটনার সময় রুমেলের সঙ্গে অন্য কেউ ছিলেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এজিএস ইব্রাহিম খলিলের রুমমেট ইউসুফ আরেফিন রুমেল নাস্তিকমনা এবং ইসলাম বিদ্বেষী। শিবির এবং শিবিরের রাজনীতিকেও তিনি ঘৃণা করেন। ভাইরাল ভিডিওটি সর্বপ্রথম নেতা অনয় চৌধুরী প্রকাশ করায় ভিডিওটি তার কাছে কীভাবে গেল, রুমেল বর্তমানে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত কিনা— এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুমেল বলেন, আমি যা বলার তদন্ত কমিটিকে বলেছি। উনারা প্রকাশ করলে আপনারা জানতে পারবেন।
রুমেল তদন্ত কমিটির কাছে কী বলেছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘সে তার আংশিক বক্তব্য দিয়েছে, আরও হয়ত দেবে। এটা ইনভেস্টিগেশনের আন্ডারে আছে। আমি নিজেও তদন্ত কমিটির মেম্বার না। সুতরাং এটা ডিসক্লোজ করার কিছু নাই। ও তার বক্তব্য খানিকটা দিয়েছে। আবার দরকার হলে তাকে ডাকা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটি এখনো তাদের (বহিরাগত দুইজন) সঙ্গে কথা বলতে পারেনি। তদন্ত কমিটি তাদের সঙ্গে কথা বলবে। বিষয়টি এখনো ইনভেস্টিগেশনের মধ্যে আছে, পুরোপুরি কিছুই বলা যাবে না।’
তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কবে নাগাদ প্রকাশ হতে পারে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা মিটিং করছি। আমরা একটা পর্যালোচনা শুনলাম। আমরা একটা ডেট দেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু নির্বিঘ্নে না করতে পারলে ডেট রাখা যায় না। আর সহযোগিতা না করলে, যাদের সাক্ষাৎকার লাগবে তারা না আসলে তো আগানো যায় না। ইউনিভার্সিটি থেকে তো কাউকে বাধ্য করানো যায় না কোনো কিছু করতে।’
এমএল/এসএএস
